
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের গ্রামগঞ্জের ভোটারদের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন, গণভোটের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের প্রভাব সম্পর্কিত স্পষ্ট বার্তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটাররা সংসদ সদস্য নির্বাচন সম্পর্কে সচেতন হলেও এবারের গণভোটের বিষয়ে অনেকটাই অনভিজ্ঞ। বিশেষ করে নারী ভোটার এবং বয়োজেষ্ঠদের মধ্যে গণভোট নিয়ে ধারনার অভাব চোখে পড়ে। তারা জানেন না, ব্যালট পেপারে এমপি নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের জন্য আলাদা ব্যালট থাকবে এবং সেখানে ‘হ্যাঁ ও না’ ভোটের কার্যক্রম কেমন হবে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে এটি মূলত শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথ প্রভাব ফেলতে পারছে না। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, প্রচারণার ঘাটতির কারণে ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং অনেকেই ভোটের দিন গণভোটে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। তারা নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মাবলী নিয়ে জোরালো জনসচেতনতা সৃষ্টির পরামর্শ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এবারের গণভোটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমানের রাজনৈতিক জোটও ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। এই বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রচারণা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।