বরগুনায় পৌরসভার সাবেক মেয়র ও প্রকৌশলীসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা

হোম পেজ » লিড নিউজ » বরগুনায় পৌরসভার সাবেক মেয়র ও প্রকৌশলীসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা
বৃহস্পতিবার ● ২৯ জানুয়ারী ২০২৬


 

বরগুনায় পৌরসভার সাবেক মেয়র ও প্রকৌশলীসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ করার পর বিল পরিশোধ না করে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডি, বরগুনা-কে অনুসন্ধান করে আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মামলার আসামিরা হলেন- পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন আকন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুল হায়দার, পৌরসভার সচিব মো. জসিম উদ্দিন খান এবং হিসাবরক্ষক মো. বেলায়েত হোসেন।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পাথরঘাটা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মেসার্স সততা এন্টারপ্রাইজ দরপত্র দাখিল করলে যাচাই-বাছাই শেষে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কাজের অনুমোদন দেয়। এক ও তিন নম্বর ওয়ার্ডে ৬৩৭ মিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ৭ লাখ ৩২৮ টাকা।

 

কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম বিল হিসেবে ২১ লাখ ১৬ হাজার ৫০১ টাকা এবং ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় বিল হিসেবে ৩০ লাখ টাকা রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলে তৃতীয় বিল হিসেবে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছাড়ের কথা ঠিকাদারকে জানানো হয়। তবে ঠিকাদারের ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা জমা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।

 

এদিকে ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদার মো. তানভীর মৃত্যুবরণ করলে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা রুমি প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হন। পৌরসভার অনুমতি নিয়ে তিনি বাকি কাজ চালু রাখেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পৌরসভার সাবেক মেয়র অপসারিত হলে তিনি পাওনা বিল আদায়ের জন্য তৎকালীন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান-এর কাছে আবেদন করেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও বিল পরিশোধ করা হয়নি।

 

পরবর্তীতে পৌরসভায় একাধিকবার যোগাযোগ করলেও নানা অজুহাতে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আসামিরা দাবি করেন, বিলের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে- যা বাদীর ভাষ্যমতে সম্পূর্ণ জালিয়াতি।

 

মামলার বাদী রাজিয়া সুলতানা রুমি বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর হলফনামার মাধ্যমে আমি মেসার্স সততা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হই। পাথরঘাটা পৌরসভার কাছে আমার প্রাপ্য ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আসামিরা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার কথা বললেও ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে সাবেক মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন আকন আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুল হায়দার ফোনে জানান, তিনি মামলার বিষয়টি শুনেছেন, তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না। পাথরঘাটা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান বলেন, মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০১:০৭ ● ৭৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ