
সাগরকন্যা প্রেতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় দরিদ্র জেলে কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণের জন্য আনা ৬০টি বকনা বাছুরের মধ্যে ওজনে কম ও রোগাক্রান্ত হওয়ায় ৪০টি বাছুর ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এতে বকনা বাছুর নিতে এসে অনেক জেলে কার্ডধারী খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৬০ জন দরিদ্র জেলে কার্ডধারীর মাঝে বকনা বাছুর বিতরণের জন্য গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেওলা হাঁস-মুরগি খামার অ্যান্ড সাপ্লাই সেন্টার ট্রাকযোগে ৬০টি বকনা বাছুর নিয়ে আসে। বাছুরগুলো উপজেলা পরিষদ চত্বরে নামানোর পর গ্রহীতা জেলেরা সেগুলো আকারে ছোট ও অসুস্থ দেখে গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেন।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বকনা বাছুরের ওজন ৬৫ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও আনা ৬০টির মধ্যে ৪০টি বাছুর রোগাক্রান্ত ও ওজনে কম পাওয়া যায়। জেলে কার্ডধারীদের অভিযোগ, পরিমাপ স্কেলে ওজন নেওয়ার আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বাছুরগুলোকে ভুষির সঙ্গে গরম পানি খাইয়ে ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করেন। পরে স্কেলে মাপার পর ৬৫ কেজি ওজনের ২০টি বকনা বাছুর বিতরণ করা হয় এবং অসুস্থ ও ওজনে কম হওয়ায় বাকি ৪০টি বাছুর বিতরণ না করে ঠিকাদারকে ফেরত পাঠানো হয়।
বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজীদ সরদার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ সরকার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিকসহ সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের জেলে কার্ডধারী কবির মৃধা বলেন, বকনা বাছুর নিতে এসেছিলাম। কিন্তু বাছুরগুলো ওজনে কম ও অসুস্থ হওয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাই খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী মুন্সী জানান, উপজেলা প্রশাসন বকনা বাছুরগুলো ওজনে কম ও রোগাক্রান্ত মনে করায় ৪০টি বাছুর গ্রহণ করেনি, ফলে সেগুলো ফেরত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বকনা বাছুরের ওজন ৬৫ কেজি হতে হবে। এই শর্ত পূরণ না করায় ৪০টি বাছুর ফেরত পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, বকনা বাছুর বিতরণে কোনো অনিয়ম হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওজনে কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।