জীবনে ইসলাম: রাতে ঘুমানোর সুন্নত সময় কখন

হোম » ইসলামী জীবন » জীবনে ইসলাম: রাতে ঘুমানোর সুন্নত সময় কখন
শুক্রবার ● ২৮ আগস্ট ২০২৬


 

জীবনে ইসলাম রাতে ঘুমানোর সুন্নত সময় কখন

সাগরকন্যা ডেস্ক

 

শৈশবে আমরা প্রায় সবাই একটি নীতিবাক্য পড়েছি, ‘আর্লি টু বেড অ্যান্ড আর্লি টু রাইজ, মেকস আ ম্যান হেলদি, ওয়েলদি অ্যান্ড ওয়াইজ।’ অর্থাৎ দ্রুত ঘুমানো ও ভোরে ঘুম থেকে ওঠা মানুষকে সুস্থ, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানী করে। ছোটবেলার সেই ছন্দ আজও অনেকের মনে গেঁথে আছে। কিন্তু পরিণত বয়সে এসেও এর মর্মার্থ বাস্তব জীবনে খুব কম মানুষই যথাযথভাবে অনুসরণ করেন।

 

আধুনিক জীবনযাত্রায় গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা অনেকের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন বিনোদনের কারণে রাতের ঘুমের সময় ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছে। অথচ পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

ইসলামেও রাতের শুরুতেই ঘুমিয়ে পড়া এবং ভোরে জেগে ওঠার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এশার নামাজের আগে ঘুমানো অপছন্দ করতেন এবং এশার নামাজের পর অহেতুক কথাবার্তা ও গল্পগুজব করাকে অপছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৮)

 

এর পেছনে রয়েছে গভীর প্রজ্ঞা। এশার আগে ঘুমিয়ে পড়লে ক্লান্তির কারণে নামাজ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে এশার পর অপ্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা ও আড্ডায় সময় কাটালে ঘুমাতে দেরি হয়। এতে ফজরের নামাজের জামাত ছুটে যাওয়ার পাশাপাশি শেষ রাতের তাহাজ্জুদ ও দোয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

 

রাতের প্রথম ভাগে ঘুমিয়ে পড়লে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায়। একই সঙ্গে শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর ইবাদত করার সুযোগ তৈরি হয়। একজন মুমিনের জন্য এ অভ্যাস তাই কেবল শারীরিক সুস্থতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মিক উন্নতি ও ইবাদতের সুযোগ।

 

দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এশার পর মানুষকে গল্প করতে দেখলে তাদের সতর্ক করতেন। তিনি বলতেন, ‘তোমরা কি রাতের প্রথম ভাগে গল্পগুজব করবে, আর শেষ ভাগে ঘুমে অচেতন হয়ে থাকবে?’ (ইবনে হাজার আসকালানি, ফাতহুল বারি, ২/৭৩, দারুল মারিফাহ, বৈরুত)

 

বর্তমান সময়ে এশার পরের সময়টি অনেকের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, চ্যাটিং, ভিডিও দেখা কিংবা অনলাইন আড্ডার সময় হয়ে উঠেছে। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় জেগে থাকা এখন খুবই সাধারণ প্রবণতা। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে এশার পর অপ্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ডে রাত কাটানো উৎসাহিত নয়।

 

অবশ্য দ্বীনি জ্ঞানচর্চা, পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন কিংবা জরুরি কোনো কাজের প্রয়োজনে এশার পর জাগ্রত থাকা বৈধ। কিন্তু যে কথাবার্তা বা কাজে দুনিয়া কিংবা আখিরাতের কোনো কল্যাণ নেই, তা পরিহার করাই একজন মুমিনের উত্তম বৈশিষ্ট্য।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজন ব্যক্তির উত্তম মুসলিম হওয়ার অন্যতম সৌন্দর্য হলো- সে অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও কাজ বর্জন করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)

 

তাই এশার পর অযথা সময় নষ্ট না করে দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাবে, ভোরে সতেজ মনে দিনের কাজ শুরু করা সহজ হবে এবং একই সঙ্গে ফজরের নামাজ ও শেষ রাতের ইবাদতের সুযোগ তৈরি হবে।

 

দ্রুত ঘুমানো ও ভোরে ওঠার অভ্যাস শুধু সুস্থ জীবনযাপনের একটি কার্যকর নিয়ম নয়; একজন মুমিনের জন্য এটি হতে পারে সুন্নাহ অনুসরণেরও একটি সুন্দর মাধ্যম। আধুনিক ব্যস্ততার মধ্যেও রাতের সময়কে সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবহার করা শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক পরিশুদ্ধির পথকে আরও সহজ করে দিতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:০০:২০ ● ২২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ