
সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক
লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার হজমে সহায়তা, শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ, শক্তি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সঞ্চয়সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে এর ভূমিকা রয়েছে। লিভারের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও এটি অনেকটা নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন লিভারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
শুরুর দিকে লিভারের বিভিন্ন রোগের তেমন কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। ফলে অনেকেই সমস্যা গুরুতর হওয়ার আগ পর্যন্ত বিষয়টি বুঝতে পারেন না। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাবার, অ্যালকোহল গ্রহণ, কম ঘুম ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ
অ্যালকোহল ভাঙতে লিভারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল গ্রহণ করলে লিভারে চর্বি জমতে পারে। পরবর্তী সময়ে প্রদাহ ও লিভারের কোষের ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘদিন এ সমস্যা চলতে থাকলে ফাইব্রোসিস ও সিরোসিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তাই লিভার সুস্থ রাখতে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাসগুলোর একটি।
জাঙ্ক ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত হওয়া
চিপস, বার্গার, পিৎজা, কোমল পানীয়, কেক, বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট নুডলসসহ অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারে সাধারণত অতিরিক্ত ক্যালরি, চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকতে পারে। এসব খাবার নিয়মিত খেলে ওজন বেড়ে যাওয়া এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ে। এর সঙ্গে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের সম্পর্ক রয়েছে।
তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ, ডিমসহ পুষ্টিকর ও তুলনামূলক কম প্রক্রিয়াজাত খাবার রাখার অভ্যাস করা ভালো।
কম ঘুম ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরের বিপাকীয় ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন প্রতিরোধ ও শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার মতো সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, কাজের ফাঁকে বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেন
লিভার ভালো রাখতে জীবনযাপনে কয়েকটি সহজ পরিবর্তন করা যায়। অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও উপকারী।
লিভারের সমস্যা অনেক সময় নীরবে বাড়তে পারে। তাই কোনো উপসর্গের অপেক্ষা না করে ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চাকে জীবনযাপনের অংশ করে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে লিভারসহ পুরো শরীর সুস্থ রাখার অন্যতম উপায়।