শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬
আগৈলঝাড়ায় নারীকে বোন সাজিয়ে জমি বিক্রির অভিযোগ
হোম » বরিশাল » আগৈলঝাড়ায় নারীকে বোন সাজিয়ে জমি বিক্রির অভিযোগ
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক নারীকে বোন সাজিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মো. মোস্তাফিজুর রহমান যুবরাজের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, নিজের সহোদর বোন ফাতেমা তুন আঁখির অংশের জমি অন্য এক নারীকে বোন পরিচয় করিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলন করে জাল দলিল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
ফাতেমা তুন আঁখি জানান, আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বেলুহার মৌজার বি.এস ১৬৪ ও ২৬৫ নম্বর খতিয়ানের ১২টি দাগে থাকা ২২ শতাংশ জমি তার নানা বাড়ির ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত। ওই জমির রেকর্ডীয় মালিক তিনি ও তার ভাই মো. মোস্তাফিজুর রহমান যুবরাজ।
অভিযোগে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থাইল্যান্ডে অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান অন্য এক নারীকে তার বোন পরিচয় করিয়ে এবং ভুয়া জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে গত ২৩ জুলাই আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ওই জমি বিক্রি করেন। এ সময় বেলুহার গ্রামের রোজিনা বেগমের কাছে জমিটির দলিল সম্পন্ন করা হয়, যার দলিল নম্বর ১৬২৪, তারিখ ২৩ জুলাই ২০২৬।
ফাতেমা তুন আঁখির অভিযোগ, জমি বিক্রির ঘটনায় ক্রেতা রোজিনা বেগম, বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান এবং দলিল লেখক মো. শহিদুল ইসলামের যোগসাজশ রয়েছে। তিনি জানান, দলিল লেখক নিজেই দলিল প্রস্তুত করে পরিচিত হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন এবং ওই দিন সাব-রেজিস্ট্রার জহিরুল ইসলাম দলিলটি নিবন্ধন করেন।
খবর পেয়ে কলাপাড়া থেকে আগৈলঝাড়ায় এসে দলিলের নকল সংগ্রহ করে বিষয়টি জানতে পারেন বলে জানান ফাতেমা। পরে দলিল বাতিলের জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আবেদন করলেও কোনো সমাধান না পেয়ে ৩০ জুলাই আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা তুন আঁখি বলেন, আমার ভাই, দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে অন্য এক নারীকে বোন সাজিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে আমাকে আমার প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
এদিকে জমির ক্রেতা বেলুহার গ্রামের রোজিনা বেগম বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান অন্য এক নারীকে বোন সাজিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে তার কাছে জমি বিক্রি করেছেন-এমন বিষয় জানতে পেরে তিনি কলাপাড়া থানায় মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান আমার পূর্বপরিচিত হওয়ায় তার দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লিখেছি। তিনি অন্য কাউকে বোন সাজিয়ে এনেছেন কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।
আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রার জহিরুল ইসলাম বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান তার বোন দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কথা জানালে জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মৌখিক অভিযোগের পর দলিল লেখক শহিদুল ইসলামের দলিল লেখা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাকে শোকজ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এআর/এমআর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৩:০৬ ● ১০ বার পঠিত
