
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নর সলিমপুর গ্রামে পানিউন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাবিব হাওলাদার (৫০) ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম (৪৫)।
নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় গোলপাতা, পলিথিন ও গাছের পাতায় তৈরি ভাঙা-চোরা একটি অস্থায়ী ঘরেই কাটছে তাদের সংসার। শীত, বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এই দম্পতিকে। তবুও জীবিকার তাগিদে কখনও কৃষিকাজ, কখনও দিনমজুরি, আবার কখনও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন হাবিব হাওলাদার।
হাবিব হাওলাদার বলেন, সুখে থাকার লাইগ্যা শুধু আমি না, আমার বউ হালিমাও কাম করে। আমি নদীতে মাছ ধরি, ও আমার লগে জাল ফেলা থেকে শুরু কইরা মাছ বাছা, জাল শুকানো সবই করে। তবুও ঘর ভালো করতে পারি নাই। শীতে কষ্ট, বৃষ্টিতে ভিজি, ঝড়ের সময় ভয় লাগে। মনে হয় এই ঘর উড়ে যাইবো।
কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। চোখ মুছতে মুছতে জানান, উন্নত ঘরের স্বপ্ন থাকলেও সামর্থ্য নেই।
হালিমা বেগম বলেন,ভালো কাপড় পড়তে পারি নাই, ভালো খাইতেও পারি নাই। শুধু কষ্টের লাইফ। চেষ্টা করি, তয় ভাগ্য সহায় হয় না। আল্লার উপরই ভরসা। কেউ যদি ঘরটা কইরা দিত, শান্তিতে একটু বাঁচতে পারতাম।
প্রতিবেশী পারভিন বেগম বলেন, এই দম্পতির জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টকর। আয়-রোজগার সীমিত হওয়ায় ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই। সন্তানরাও আলাদা থাকেন এবং নিজেরাই অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল। সরকারি বা বিত্তবানদের সহায়তা পেলে তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, বর্তমানে টিনের ঘরের বরাদ্দ নেই। আগামী জুন মাসে বরাদ্দ এলে আবেদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।