মাঠ নয় যেন দিঘি, খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

হোম » পটুয়াখালী » মাঠ নয় যেন দিঘি, খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
বুধবার ● ২০ মে ২০২৬


 

 

মাঠ নয় যেন দিঘি, খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক,কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকায় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব, জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

 

উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ৪১ নং নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠটি এখন প্রায় দিঘিতে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠজুড়ে পানি জমে থাকে। বর্ষাকালে সেই পানি দীর্ঘসময় স্থায়ী হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা তো দূরের কথা, বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মাঠজুড়ে হাঁসের বিচরণ আর কাদাপানির কারণে পুরো পরিবেশটাই যেন পরিত্যক্ত জলাশয়ের মতো।

 

১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় শতবর্ষী এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে মাত্র তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি অফিসকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি দুটি কক্ষে গাদাগাদি করে একাধিক শ্রেণির পাঠদান চালাতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

 

এছাড়া বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো বাউন্ডারি দেয়াল। ফলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবাধে বিচরণ করছে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলো থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক পুষ্পরানী বলেন, স্কুলের মাঠ বলে কিছু নাই। সবসময় পানি জমে থাকে। ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা করতে পারে না। আবার দুইটা রুমে সব ক্লাস হয়। খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করতে হয়।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার পলি বলেন, বর্ষাকালে মাঠ ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। তখন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে আসতে সমস্যা হয়। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় দুটি কক্ষেই কয়েকটি শ্রেণির পাঠদান চালাতে হচ্ছে।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিরেন চন্দ্র পাইক সাগরকন্যাকে বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে প্রায় সারা বছর পানি জমে থাকে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ নেই। শ্রেণিকক্ষ সংকট ও বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১১:২৫:৫৬ ● ৩৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ