গৌরনদীতে অন্যের দোকান ভেঙ্গে জমি দখলের অভিযোগ!

প্রথম পাতা » বরিশাল » গৌরনদীতে অন্যের দোকান ভেঙ্গে জমি দখলের অভিযোগ!
বৃহস্পতিবার ● ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২


---

গৌরনদী (বরিশাল) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

বরিশালের গৌরনদীতে রবীন্দ্রনাথ পালের সেনেটারী দোকান ঘর ভেঙ্গে ফেলে ও মালামাল লুট করে নতুন ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই হাট সংলগ্ন স্লুইস গেট নামকস্থানে এ ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষপাতিত্বের কারণে রামকৃষ্ণ পাল, গংরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে  ওই জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
পাল সেনেটারী দোকানের মালিক রবীন্দ্রনাথ  পাল  জানান,  উপজেলার বাকাই হাট সংলগ্ন স্লুইস গেট নামকস্থানে  দলিলকৃত জমিতে তিনি (ররীন্ত্রনাথ) গত ১০ বছর পূর্বে এক শতাংশ জমির ওপর ১টি টিনের দোকান ঘর নির্মাণ করেন। তখন থেকে পাল সেনেটারী নামে ওই দোকান ঘরে তিনি  সেনেটারীর ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।
রবিন্দ্রনাথ  অভিযোগ করে বলেন, গত মঙ্গলবার ভোররাতে  রামকৃষ্ণ পাল, সমীর পাল, সুবোধ পালের নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী আমার   দোকান ঘর ভেঙ্গে ফেলে ও সেনেটারীর মালামাল লুট করে ওই জায়গায়  নতুন ঘর নির্মাণ করতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে দোকানে পৌছে  আমি ঘর নির্মাণ করতে তাদের বাঁধা দিলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা আমাকে মারধর করার ও জীবন নাশের হুমকি দেয়। তখন আমার দোকানের কর্মচারী শহিদ ফকির মোবাইল ফোন দিয়ে  দখলকারী ও ভাড়াটিয়া সন্দ্রাসীদের কর্মকান্ড ভিডিও করতে থাকে। এ সময়  এক সন্ত্রাসী  শহিদকে মারধর করে তার  (শহিদ) মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আঁছার দিয়ে ফোনটি ভেঙ্গে ফেলে। বাঁধা উপেক্ষা করে  দখলকারীরা ঘর নির্মাণ করতে থাকলে স্থাণীয় ইউপির চেয়ারম্যান নুর-আলম সেরনিয়াবাত এবং থানা পুলিশকে খবর দেই। ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে আসেনি ও কোন পদক্ষেপও নেয়নি। বিলম্ব করে থানা পুলিশ সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছার কিছুক্ষন আগে ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তখন স্থাণীয়দের উপস্থিতিতে দখলদার সমীর পাল পুলিশকে জানায়, ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে দোকান ঘর ভেঙ্গে ফেলে নতুন ঘর নির্মান করা হয়েছে। এ ব্যাপাওে আমি (রবীন্দ্রনাথ) বাদি হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
রামকৃষ্ণ পাল অভিযোগ দখলের অস্বীকার করে বলেন, ওটা আমার জায়গা, আমি ওনাকে  (রবিন্দ্রনাথ) ভাড়া দিয়েছিলাম। ভাড়া দেয় না।  তাই খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে বিচার দিয়েছিলাম, বিচার মানে নাই। তাই আমার দলিলের জায়গায় আমি ঘর তুলেছি।
খাঞ্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি নুর-আলম সেরনিয়াবাত অভিযোগ অস্বীকার করে করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে দাখিলকৃত রামকৃষ্ণ পালের  লিখিত  অভিযোগের ভিত্তিতে  ২ মেম্বারসহ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। গঠিত ওই তদন্ত কমিটি ২২ সেপ্টেম্বর বিকালে তদন্ত রিপোর্ট ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সকালে ঘর নির্মাণের খবর পেয়ে  এক গ্রাম পুলিশ ও এক ইউপি সদস্যকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গৌরনদী থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান,  লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এআর/এমআর

 

বাংলাদেশ সময়: ২০:৩২:৫১ ● ১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ