নেছারাবাদে প্রতিবন্ধি না হয়েও পেল প্রতিবন্ধী কার্ড!

প্রথম পাতা » পিরোজপুর » নেছারাবাদে প্রতিবন্ধি না হয়েও পেল প্রতিবন্ধী কার্ড!
বুধবার ● ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২


নেছারাবাদে প্রতিবন্ধি না হয়েও পেল প্রতিবন্ধী কার্ড!

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

নাম তার মনিরুজ্জামান (মনির)। নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফারুক হোসেন ও শান্তা আক্তার দম্পতির ছেলে। দশম শ্রেনীর ছাত্র মনিরুজ্জামান সম্পূর্ন সুস্থ মানুষ। ভুয়া জন্মনিবন্ধন, মেডিকেল সনদ ও ছবি দিয়ে প্রতিবন্ধি কার্ড বাগিয়েছেন ৪নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল পারভেজের সহয়োগীতায় মনিরুজ্জামানের মা শান্তা আক্তার। অপর দিকে ছেলেটির বাবা ফারুক হোসেন দাবী করেছেন তার ছেলে প্রতিবন্ধি নয়। অর্থের লোভে তার স্ত্রী ইউপি সদস্য সোহেল পারভেজের মাধ্যমে সমাজ সেবা দপ্তরের কর্মচারীদের যোগ সাজোসে প্রতিবন্ধি কার্ড বানিয়ে সরকারী টাকা আত্মসাতের পায়তারা চালাচ্ছে। অপর দিকে ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গৌতম পাল এ বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে দাবী করেন।
সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সামান্য দুরে জুলুহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের বাড়ীর মালিক ফারুক হোসেন। ফারুক ঢাকাতে ব্যবসা করেন। তার দুটি সন্তানের মধ্যে ছেলে মনির তার সাথেই থাকে। মনিরুজ্জামান দশম শ্রেনীর ছাত্র। তার মা শান্তা আক্তার ও ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল পারভেজ মিলে ভূয়া মেডিকেল সনদ ও জন্ম নিববন্ধন দিয়ে অন্য একজনের ছবি লাগিয়ে প্রতিবন্ধি কার্ড বানিয়েছেন। কার্ডে মনিরুজ্জামানের নাম মনির হোসেন লেখা হয়েছে। যে এলাকার বাসিন্দা অর্থাৎ ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গৌতম পাল এ বিষয়ে কিছুই জানেনা এবং তার কোন স্বাক্ষরও নেই। সোহেল পারভেজ প্রায় সার্বক্ষনিকই উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে, সাবরেজিষ্ট্রি অফিস এলাকায় দেখা যায়। বিভিন্ন দফতরের কর্মচারীদের সাথে তার সক্ষতা রয়েছে বলে জানাযায়। অপর দিকে সোহেল পারভেজের সাথে শান্তা আক্তারের গভীর সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় ওপেন সিক্রেট। যে কারনে শান্তা আক্তার ও স্বামী ফারুক হোসেনের সাথে পারিবারিক সম্পর্কের দুরুত্ব দীর্ঘ দিনের।
মনিরুজ্জামান (মনির) এ সাগরকন্যাকে জানান, আমি প্রতিবন্ধি নই আমার শারীরিক কোন সমস্য নেই। প্রতিবন্ধি হওয়ার জন্য অমি কখনো ডাক্তারের বা অফিসে কারো কাছে যাইনি।
মনিরুজ্জামানের (মনির) বাবা ফারুক হোসেন জানান,আমার ছেেল মনির সম্পূর্ণ সুস্থ সবল মানুষ। সে দশম শ্রেনীর ছাত্র। সোহেল মেম্বারের সাথে আমার স্ত্রী শান্তার গভীর সম্পর্কের কারনে ওই দুজনে মিলে ভূয়া জন্ম নিবন্ধন মেডিকেল সনদ, ছবি তৈরি করে এবং নামের কিছুটা পরিবর্তন করে প্রতিবন্ধি ভাতার জন্য কার্ড বানিয়েছে। আমি বিষয়টি সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আমি ওই কার্ড বাতিলসহ এর সাথে যারা জড়িত তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হোকে। স্বামীর অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তা আক্তার বলেন, তার ছেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি। আমি সোহেল মেম্বারকে চিনতাম না। আমার ননদের জামাই সাবেক মেম্বার তোফাজ্জেল হোসেন সোহেল মেম্বারের কাছে পাঠিয়ে ছিলেন। নামে ভুলত্রুটি সম্পর্কে বলেন সব মেম্বারে জানেন। বুদ্ধি প্রতিবন্ধি দশম শ্রেনীতে পড়ে কিভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন প্রতিবছর ক্লাশে উঠায়ে দিয়েছি। ছবির বিষয়ে বলেন ওটাই আমার ছেলে মনিরের ছবি।
এ বিষয়ে সমুদয়কাঠীর ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গৌতম পাল বলনে, আমি মনিরের নামে কোন প্রতিবন্ধী কার্ড করাইনি। কে বা কারা করিয়েছে আমি জানিনা। যারা সত্যিকারের প্রতিবন্ধি তাদের জন্য সুপারিশ করেছি। ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল পারভেজ বলেন, মনির সত্যিকারের প্রতিবন্ধি। তার মেডিকেল সার্টিফিকেট আছে। ওর মায়ের কাছে জিজ্ঞাসা করেন। ভূয়া জন্মনিবন্ধন, নাম, ছবি পরিবর্তন করে অন্য ওয়ার্ডের মানুষের জন্য সুপারিশ কেন করেছেন। এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এক জনের জন্ম নিবন্ধন ৪/৫ টিও থাকতে পারে। অন্য ওয়ার্ডের কার্ড কেন করালেন এমন প্রশ্নে জবাবে বলেন চেয়ারম্যান করেছেন আমি করিনি। সুপারিশ পত্রে আপনার স্বাক্ষর রয়েছে এর উত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেযারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিবন্ধি না হয়েও মনিরের নামে প্রতিবন্ধি কার্ড করা হয়েছে বিষয়টি জেনেছি। কাজটি খুবই অন্যায় হয়েছে। মা বাবা ও সন্তান বলবে প্রতিবন্ধি কিনা। একজন সদস্যের ওপরতো বিশ^াস রাখতে হয়। মেম্বার সই করেছেন বিধায় আমার সই করতে হয়েছে। যারা এটা করিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন কুমার বিশ্বাস জানান, সকল কাগজপত্র যাচাই করে ডাক্তারী সনদ দেখে কার্ড দিয়েছি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকলে ওই কার্ড বাতিল করা হবে। এখন পর্যন্ত সে ভাতা পায়নি। আমরা তদন্ত করে দেখতেছি।

আরএ/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২১:৪১:২১ ● ৩৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ