ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ঢল

প্রথম পাতা » কুয়াকাটা » ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ঢল
বৃহস্পতিবার ● ৫ মে ২০২২


ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ঢল

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সাগরকন্যা অফিস॥

 

 

 

প্রায় লক্ষাধিক পর্যটকের বিরতিহীন ছুটে চলা আর ক্লান্তিহীন উচ্ছাসে এখন মুখরিত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটা। ঈদের দিন থেকে সকাল থেকেই এসব পর্যটকের আগমনে কোলাহলে মুখরিত কুয়াকাটার ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতসহ লেম্বুর বন, গঙ্গামতির চর, চর বিজয়, বাউলি বন, টেংরাগিরি, ফাতরার বন, তিন নদীর মোহনা, শ্রীমঙ্গল ও সীমা বৌদ্ধ মন্দির, মিশ্রীপাড়া রাখাইন পল্লী, রাখাইন মার্কেট, শুটকি পল্লী, শুটকী মার্কেট, মৎস্য বন্দর, ঝাউবাগান, ইকোপার্কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। দীর্ঘ দুই বছর পর পর্যটকদের এমন উপচে পড়া আগমনে প্রশান্তির হাসি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মুখে। করোনকালীন সময়ের অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায় ফিরে আসবে আর্থিক স্বস্তির সুবাতাস এমন আশা পর্যটন ব্যবসায়ীদের।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের বরনে ঈদর আগেই আলোকসজ্জাসহ রংয়ের আস্তরন আর নতুন কারুকার্যে সজ্জিত হয়েছে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল-কটেজ, ঝিনুক মার্কেট, রাখাইন মার্কেট, তাতেঁর দোকান, এন্টিক গহনার দোকান, শুটকী মার্কেট, খাবার হোটেল, নৌকা মিউজিয়াম, ফিশফ্্রাই পল্লীসহ সকল দর্শনীয় স্থানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সৈকতে বসেছে মুখরোচোক নানা খাবারসহ বিভিন্ন পন্যের ভ্রাম্যমান দোকানের পসরা।

 

সৈকতে নিয়মিত ফুচকা-চটপটি বিক্রেতা আলম, ফিশফ্রাই পল্লীর ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, গত দুই বছর ব্যবসায় বন্ধ ছিল। রোজার মাসে কোন পর্যটকই ছিলনা। খুব কস্টে দিন কেটেছে পরিবার পরিজন নিয়ে। এখন খুবই ভাল বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ঢল

 

মুখরোচোক বিভিন্ন আচার বিক্রেতা আবুবকর, শুটকী ব্যবসায়ী সোহেল মাহমুদ বলেন, করোনকালীন সময়ের দীর্ঘ বন্ধে এ খাতের ব্যবসায়ীদের মজুদকৃত কয়েক কোটি টাকার পন্য নস্ট হয়েছে। মৌসুমে তেমন পর্যটক না থাকায় নতুন বিনিয়োগ নিয়ে ঘুরে দাড়ানোর প্রচেস্টাও বিফল হয়েছে। এবার বেচাবিক্রি ভাল। আশা করছি লাভ না হোক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।

 

রাখাইন তরুনী নিশু তালুকদার বলেন, ধারদেনা আর ব্যাংক ঋন নিয়ে গড়ে ওঠা পর্যটক নির্ভর রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী তাঁত পন্যের বিশাল মার্কেটটি হুমকীর মুখে পড়েছিল। পর্যকদের ব্যাপক আগমনে এবার ঘুরে দাড়াতে পারবে এ শিল্পের সাথে জড়িতরা।

 

 

কুয়াকাটা টুরিস্ট বোট মালিক সমিতির নির্বাহী সদস্য হোসাইন আমির বলেন, পর্যটকদের বেশ চাপ রয়েছে। মৌসুম বিবেচনায় নিরাপত্তাকে প্রধান্য দিয়ে আন্ধারমানিক নদীর মোহনা থেকে পর্যটক নিয়ে নদী পথে সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চল ফাতরার বন ভ্রমন করানো হচ্ছে।

 

কুয়াকাটা হোটেল হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোশিয়েশনের সেক্রেটারী জেনারেল মোতালেব শরীফ বলেন, ঈদের বন্ধসহ সরকারী নিয়মিত বন্ধ মিলিয়ে মোট নয়দিনের বন্ধের কারনে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল নেমেছে। এ কারনে ঈদের আগেই অধিকাংশ হোটেল-মোটেল-কটেজের কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

কুয়াকাটা টুর‌্যস অপররেটদের সংগঠন কুটুমের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব বলেন, অনেক পর্যটক হোটেলের রুম পায়নি। তাদের আন্তরিক সেবা দেয়ার চেস্টা করছি। এছাড়াও যারা সংগঠনের সহযোগিতা নিচ্ছেন তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাসহ সর্বোত্তম সেবা দেয়া হচ্ছে।

 

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক বলেন, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলির্শ, ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমনসহ সার্বিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ কুয়কাটা জোন। সাদা পোশাকধারী পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় নিরাপত্তার চাদরে পুরো সৈকতসহ সকল দর্শণীয় স্থান।

 

 

 

 

জেআর/এমআর

 

বাংলাদেশ সময়: ২১:২১:৪৯ ● ২৭৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ