গোপালগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা!

প্রথম পাতা » ঢাকা » গোপালগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা!
শুক্রবার ● ২৯ এপ্রিল ২০২২


গোপালগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা!

গোপালগঞ্জ সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার সাতপাড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌঁড় প্রতিযোগিতা। এ ঘোড়া দৌঁড় প্রতিযোগীতা দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে সাতপাড় উত্তরপাড়া মাঠে।

আজ শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বৈশাখী মেলা উপলক্ষে সাতপাড় উত্তরপাড়া মাঠে এই ঘোড় দৌঁড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে যুব উন্নয়ন সংঘ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা জানাগেছে, করোনায় দু’বছর বন্ধ থাকার পর এবছর অনুষ্ঠিত ঘোড় দৌঁড় প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন জেলার ৬টি ঘোড়া অংশ নেন। কয়েক রাউন্ডে চলে এ প্রতিযোগীতা। চূড়ান্ত লক্ষে পৌঁছাতে ঘোড়ার সওয়ারের দৃষ্টি পরিচালিত করে ঘোড়াকে। দৌঁড় শুরু হবার সাথে সাথে মাঠের চারদিকে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বসিত আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। দর্শকের মুহুর্মুহু করতালি আর চিৎকারে অন্যরকম এক আনন্দ বয়ে যায়। এ যেনো চিরায়ত বাঙালির চিরচেনা মিলনমেলা।

এ ঘোড় দৌঁড় প্রতিযোগীতো দেখতে গোপালগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার শিশু ও নারীসহ হাজার হাজার দর্শনার্থী পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে আসে এই মাঠে। উপভোগ করেন ঘোড় দৌঁড় ও গ্রামীণ মেলা। মেলায় নানা ধরনের পন্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানীরা।

এর আগে ঘোড় দৌঁড় প্রতিযোগীতায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাতপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণব বিশ্বাস বাপ্পি। ছাড়া এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগীতা শেষে ঘোড় দৌঁড়ে অংশ নেয়া কাশিয়ানীর রবিউল ইসলামের ঘোড়া প্রথম, মাদারীপুরের সমীর মন্ডলের ঘোড়া দ্বিতীয় এবং কাশিয়ানীর তামিম ইসলামের ঘোড়া তৃতীয় স্থান অধিকার করে। পরে বিজয়ীদের মধ্যে নগদ টাকা প্রদান করা হয়।

ঘোড়া দৌঁড়ে অংশ নেয়া ঘোড়ার সওয়ার বালাজিত টিকাদার (১৫) ও সাইদুল সিকদার (১৬) বলেন, এখানে নিজের ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগীতায় এসেছি। প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে পেরে খুব ভাল লাগছে। এলাকার মানুষও আনন্দ পাচ্ছে। আমার পুরস্কার পাওয়ার জন্য নয় মানুষকে আনন্দ দিতে প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহন করি।

ঘোড় দৌঁড় দেখতে আসা সুশীল বিশ্বাস বলেন, এখানে দীর্ঘ বছর ধরে ঘোড়া দৌঁড় অনুষ্ঠিত হয়ে আসচ্ছে। আমি প্রতি বছর এখানকার ঘোড়া দৌঁড় দেখেছি। এ বছরও এসেছি। আমি চাই প্রতি বছর যেনো এখানে ঘোড়া দৌঁড় প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হোক।

স্কুল ছাত্রী সুমনা বিশ্বাস বলেন, এবারই প্রথম ঘোড় দৌঁড় প্রতিযোগীতা দেখলাম। মা-বাবার সাথে দেখতে এসেছি। ঘোড় দৌঁড় প্রতিযোগীতা দেখে খুব ভাল লেগেছে।

ঘোড় দৌঁড় দেখতে আসা উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, এমন আয়োজন করায় আমি আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। এখন এসব প্রতিযোগীতা হারিয়ে যাচ্ছে। আশা করি আগামীতেও এমন আয়োজন থাকবে।

আয়োজক যুব উন্নয়ন সংঘের সভাপতি কমলেশ বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘ দুই বছর করোনার কারনে ঘোড় দৌঁড় প্রতিযোগীতার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এবার বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের ঐহিত্য ধরে রাখতে আগামীতেও এমন আয়োজন করা হবে।

সাতপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণব বিশ্বাস বাপ্পি বলেন, কালেরক্রমে আমাদের দেশ থেকে ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এসব খেলাগুলো ধরে রাখা উচিত। আগামীতে এসব খেলাগুলো ধরে রাখতে আমার সহযোগীতা সব সময় অব্যাহত থাকবে।


এইচবি/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০০:৪৭ ● ৪৭৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ