
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নির্ধারিত ৮০ কেজির পরিবর্তে জেলেদের হাতে পৌঁছাচ্ছে মাত্র ৪৮ থেকে ৫৮ কেজি চাল। এতে অন্তত ৩৬ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, কার্ডধারী জেলেদের কার্ড আটকে রেখে স্লিপের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ কেজি করে চাল নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ৩০ ও ৫০ কেজির বস্তায়ও ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রতি জেলে গড়ে ২২ থেকে ৩২ কেজি চাল কম পাচ্ছেন। এছাড়া পরিবহন খরচের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাসে প্রতি জেলেকে মাসে ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে প্রথম দুই মাসের ৮০ কেজি চাল বিতরণ শুরু হলেও ধুলাসার ইউনিয়নে ১ হাজার ৪৫০ জন জেলের মধ্যে এই অনিয়মের ঘটনা ঘটে। এতে মোট প্রায় ৩৬ মেট্রিক টন চাল লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপকারভোগী কাউয়ারচর গ্রামের জুয়েল হাওলাদার বলেন, ‘৩০ কেজির দুইটি বস্তা দেওয়া হয়েছে, তাতেও ওজনে কম রয়েছে।’ রেজাউল নামে আরেক জেলে বলেন, ‘আমাকে ৫০ কেজির একটি বস্তা দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেও অন্তত ২ কেজি কম।’ একই অভিযোগ করেন মতি মোল্লা, চান মিয়া মল্লিক, দুলাল বয়াতি ও দুলাল গাজীসহ অনেকে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ‘কইলে কী অইবে, কেউ বিচার করে না। গরিবের চাউল চুরি করছে, লজ্জাও নাই।’
অভিযোগের বিষয়ে ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, বিষয়টি জেনেছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।