
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মহিপুর (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মহিপুর-কুয়াকাটা উপকূলে সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ২৭ হাজার লিটার ডিজেল অতিরিক্ত বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে। জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত জেলে ও ট্রলার মালিকদের জীবিকা সচল রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই তেল সরবরাহ করা হয়।
শনিবার (৪ এপ্রিল) শেষ বিকালে কলাপাড়ার বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশন ও কুয়াকাটার আলীপুর ফরাজি ট্রেডার্স পাম্পের মাধ্যমে এ জ্বালানি তেল বিতরণ করা হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী আলীপুর ফরাজি ট্রেডার্সে ১২ হাজার লিটার এবং বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশনে ১৫ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় জেলেদের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০০টি ট্রলারের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী ৪০০ থেকে ১০০০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ করা হয়। প্রয়োজনে আগামী দিনেও এ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী ও লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করে সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
জেলেরা জানান, বড় ট্রলারগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ দিনের সমুদ্রযাত্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকটে প্রায় ২৫০টি ট্রলার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্তত ২০ হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েন। সীমিত এই বরাদ্দ পুরো সংকট না কাটালেও অন্তত কিছু ট্রলারকে সাগরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। তার আগে অন্তত একবার হলেও জেলেরা যেন সমুদ্রে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী বলেন, জেলেদের জীবন-জীবিকা ও সমুদ্র অর্থনীতির কথা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি ছিল। তিনি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
মহিপুর আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা বলেন, সরকারের এই বিশেষ ব্যবস্থাপনা জেলেদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, জেলেদের জ্বালানি সংকট নিরসনে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।