বিএনপি ব্যতীত এই দেশ কেউ চালাতে পারবে না: নুরুল হক নূর

হোম পেজ » লিড নিউজ » বিএনপি ব্যতীত এই দেশ কেউ চালাতে পারবে না: নুরুল হক নূর
রবিবার ● ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫


 

বিএনপি ব্যতীত এই দেশ কেউ চালাতে পারবে না: নুরুল হক নূর

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেছেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। জাতীয় সংকট কাটিয়ে দেশকে স্থিতিশীল পথে ফিরিয়ে আনতে হলে আগামী দিনে বিএনপিকেই রাষ্ট্রক্ষমতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার রাতে গলাচিপা বিএনপি কার্যালয়ে দলটির একাংশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন নুরুল হক নূর। এ সময় বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে বিজয়ী করতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নুরুল হক নূর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়নি- এমন বিভ্রান্তিকর আলোচনা চলছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সময় এলেই সবকিছু স্পষ্ট হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তার সঙ্গে যে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে, তা এখনই প্রকাশ্যে আনার প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে একটি আন্তরিক রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তবে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলেও কিছু অরাজনৈতিক শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে নতুন আন্দোলন সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে, যা রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।

সম্প্রতি তাদের আন্দোলনের এক সাহসী কর্মী ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার প্রসঙ্গ তুলে নুর বলেন, এ ঘটনায় সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার রেশ ধরে দেশের দুটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি আরও দীর্ঘ হলে রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নুরুল হক নূর বলেন, শুধু নির্বাচন হলেই সংকটের সমাধান হবে- এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার আগামী পাঁচ বছরে একটি স্থিতিশীল সরকারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। এর লক্ষ্য হবে দেশের উন্নয়ন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত প্রাপ্তি বা দল কতটি আসন পেল- এসব বিষয় তাদের কাছে মুখ্য নয়। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। সে কারণেই কোনো ধরনের ভাগ-বাটোয়ারার প্রশ্ন নেই। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- আগামী দিনে বিএনপিকেই রাষ্ট্রক্ষমতায় আনতে হবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইখতিয়ার কবির। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নুরুল হক নূর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং বিএনপি তাকে সমর্থন দিয়েছে। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এটি সবাইকে মেনে নিতে হবে। মনোনয়ন নিয়ে ব্যক্তিগত কষ্ট থাকতেই পারে, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক বা অশোভন মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৯:৫৬ ● ১১৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ