সর্বশেষ
আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেন দাবিতে গণঅনশন, দ্বিতীয় দিনেও সরকারি সাড়া নেই সভাপতি শাহ আলম, সম্পাদক আউয়াল পিরোজপুরে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন ভাণ্ডারিয়ায় চুরির দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত এলাকাবাসীর কলাপাড়ার নাওভাঙা খাল ইজারা ঘিরে সেচ সংকটের শঙ্কা, উদ্বেগে শতাধিক কৃষক পরিবার দুমকিতে সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনা, বাড়ছে আবাদ সুন্দরবনে অপহৃত দুই জেলে উদ্ধার, অস্ত্র-গোলাবারুদসহ বনদস্যু আটক মেহেন্দিগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা, অভিভাবকদের ক্ষোভ শার্শার উলাশীতে জিয়া খাল পুনঃখনন উদ্বোধন ঘিরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন

দুমকিতে শিল্পকারখানা নেই, কর্মসংস্থান সংকট

হোম » পটুয়াখালী » দুমকিতে শিল্পকারখানা নেই, কর্মসংস্থান সংকট
মঙ্গলবার ● ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫


দুমকিতে শিল্পকারখানা না থাকায় কর্মসংস্থানের সংকট, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দুমকি (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় এখনো গড়ে ওঠেনি উল্লেখযোগ্য কোনো শিল্পকারখানা। ফলে কৃষিকাজের বাইরে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকায়। কাজের অভাবে বহু শ্রমজীবী পরিবার দিন কাটাচ্ছে অনিশ্চয়তায়।
উপজেলার ব্যবসায়ীরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ক্রেতারা এখন মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে জেলা শহর পটুয়াখালী কিংবা বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে নিচ্ছেন। এতে স্থানীয় বাজারে ক্রেতা কমে গেছে, বিক্রি কমেছে দোকানিদের। অনেক ছোট ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়েছেন।
দুমকি উপজেলা শরের পিরতলা বাজারের ইসলামিয়া বস্ত্রালয়ের মালিক মো: শামীম মিয়া বলেন, আগে গ্রামের মানুষ বাজারে এসে কাপড়-চোপড়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনত। এখন বাসে চড়ে শহরে চলে যায়। আমাদের দোকানে বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই কথা জানান জোনাকী বস্ত্রালয়ের মো: জাকির হাওলাদারসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী।
কৃষিকাজ মৌসুমি হওয়ায় বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর অনেক শ্রমজীবী মানুষের কাজ থাকে না। শিল্পকারখানা কিংবা স্থায়ী কর্মক্ষেত্র না থাকায় তারা কর্মহীন হয়ে পড়েন। এতে আয় বন্ধ হয়ে যায়, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।
নদীতীরবর্তী এলাকার কিছু নিম্নআয়ের মানুষ নদী ও খালে জাল ফেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন। তবে এতে সবার জন্য পর্যাপ্ত আয় নিশ্চিত হয় না। ভেতরাঞ্চলের শত শত দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবার কাজের অভাবে ভ্যান, ঠেলাগাড়ি চালানো, দৈনিক মজুরি খাটা কিংবা শহরমুখী অস্থায়ী কাজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
দিনমজুর গোলাম মোস্তফা খান, মোজাম্মেল হাওলাদার বলেন, কৃষির মৌসুম ছাড়া আমাদের কাজ থাকে না। কারখানা থাকলে অন্তত নিয়মিত আয় হতো। একই অভিযোগ ভ্যানচালক ও ঠেলাগাড়ি চালকদেরও।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মতে, নগরায়নের পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা জরুরি। শিল্পাঞ্চল, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র কিংবা উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম গড়ে তোলা গেলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
তাদের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শিল্পকারখানা স্থাপন এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে দুমকির মানুষ নিজ এলাকায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবে। এতে কর্মহীনতা কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি ফিরবে।

এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩৬:৪০ ● ১১৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ