মানিক পশারীর কবর খোঁড়া নিয়ে ভাইরাল ছবির নেপথ্যে যা ঘটেছিল

হোম » পিরোজপুর » মানিক পশারীর কবর খোঁড়া নিয়ে ভাইরাল ছবির নেপথ্যে যা ঘটেছিল
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬


মানিক পশারীর কবর খোঁড়া নিয়ে ভাইরাল ছবির নেপথ্যে যা ঘটেছিলসাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর

 

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ঘিরে পিরোজপুরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তিন নারী মিলে তাঁর কবর খুঁড়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি করেছেন। তবে কবর খোঁড়ার সময় কী ঘটেছিল, কারা সেখানে ছিলেন এবং দাফনের সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

 

মানিক পশারীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামপুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কবর খোঁড়ার সময় ওই তিন নারী ছাড়াও অন্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে মূলত ওই তিন নারীর মাটি সরানোর ছবিই ছড়িয়ে পড়ে।

 

স্থানীয় গ্রামপুলিশ মতিউর রহমান জানান, মানিক পশারীকে দাফনের জন্য প্রথমে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে তাঁর বাড়ির কাছে কবর খোঁড়া হয়। কিন্তু মাগরিবের পর একদল লোক কবরটি ভরাট করে দেয়। পরে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে আবার কবর খোঁড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

মতিউর রহমান বলেন, কবর খোঁড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিতে আমি মানিক পশারীর এক বোনের বাড়িতে যাই। তাঁর বোনকে কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম আনতে বলি। এ সময় তাঁর বোন ও আরও দুই নারী আসেন। পরে আমি কবর খোঁড়ার জন্য লোক খুঁজতে গেলে এরই মধ্যে ওই নারীরা মাটি সরাচ্ছিলেন। সেই সময়ের ছবিই ভাইরাল হয়েছে। আমি ও স্থানীয় এক ব্যক্তি মিলে কবর খুঁড়েছি। এ সময় নারীরা সাহায্য করেছেন। ফলে তিন নারী মিলে কবর খুঁড়েছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়।’

 

কবর খোঁড়ার সময় ওই তিন নারী ছাড়া স্থানীয় কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলেও সামাজিক মাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী বলেন, প্রথম দিকে কবর খোঁড়ার সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও ছিলেন। তবে সন্ধ্যার পর কবর ভরাট ও হুমকির ঘটনার পর অনেকে ভয়ে চলে যান বলে তাঁর অভিযোগ।

 

হেনা পশারীর দাবি, জামায়াত-শিবিরের লোকজন এসে বলেছিলেন, ‘সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় কবর ভরাট করে দেওয়া হবে।’

 

তিনি বলেন, কবর খোঁড়ার সময় তাঁদের সঙ্গে আরও দুজন লোক ছিলেন। পরে রাতে প্রশাসনের লোকজন এসে তাঁর ভাইকে দাফন করেন।

 

এদিকে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে বা জানাজায় কোনো বাধা ছিল না, জনগণের আপত্তি ছিল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদানে, যা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অবমাননা।

 

জামায়াত নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় একাধিক মুক্তিযোদ্ধাও মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেছেন।

 

মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:১৮:৪৫ ● ২১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ