মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

হোম » পিরোজপুর » মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬


 

মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে মন্দিরের ব্যবহার্য ৪২ শতাংশ জমি দখল করে চাষাবাদের অভিযোগে স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মন্দির কমিটি, জমির শরিক ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সমুদয়কাঠি বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা জমি উদ্ধার, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান চালু এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমুদয়কাঠি দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী শীতলা মন্দিরের সভাপতি মনোজ বিশ্বাস। তিনি মন্দিরের দীর্ঘদিনের ব্যবহার্য জমি দখল, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের মামলা এবং সেখানে চাষাবাদ অব্যাহত রাখার অভিযোগ তুলে ধরেন।

 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৬২ সালে সমুদয়কাঠি দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী শীতলা মায়ের মন্দিরের ব্যবহার ও ধর্মীয় উৎসবের জন্য ৪২ শতাংশ জমি দান করা হয়। দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে জমিটি মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে দাবি করেন তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, সরকারি সর্বশেষ জরিপে জমিটি বিএস ১৩০ নম্বর খতিয়ানের ৯৫২ নম্বর দাগে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালে শফিকুল ইসলাম হাওলাদার নেছারাবাদ সহকারী জজ আদালতে জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলার নম্বর ৮২/২০১৬। মন্দির কমিটির দাবি, মামলার আরজিতে জমিটির সর্বশেষ বিএস খতিয়ানের তথ্য গোপন করা হয়েছে। তাঁদের আরও দাবি, ১৯৯৯ সালের ২৪ মার্চ শফিকুল ইসলাম ও তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমান তিনটি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে জমি কিনলেও ওই দলিলগুলোর সীমানা বা দাগে মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমির উল্লেখ নেই।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, জমির প্রকৃত মালিক ও মন্দির কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত না করে মামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে এবং একতরফা ডিক্রি নেওয়া হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করে তাঁরা আদালতের নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের দাবি জানান।

 

মন্দির কমিটির অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ওই জমিতে প্রবেশ করে ধান চাষ শুরু করেন। তাঁর নামজারি রেকর্ডে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির উল্লেখ থাকলেও তিনি পুরো ৪২ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করছেন। ২০২৫ সালেও একইভাবে চাষাবাদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

 

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, চলতি বছর পুনরায় জমিতে চাষাবাদের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। পরে জমিটিকে শ্রীশ্রী শীতলা মায়ের মন্দিরের ব্যবহার্য ভূমি হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।

 

জমির দখল নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা। তাঁরা জমির মালিকানা ও আদালতের নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মন্দিরের ব্যবহার্য ভূমি উদ্ধার এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক টুটুল আইচ, সমুদয়কাঠি রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক শেখর বাড়ৈ, বিশিষ্ট সমাজসেবক মুজিবুর রহমান, কৃষিবিদ বরুণ কর, সমাজসেবক জাকির হোসেন খান, সুমন খান, মরিয়ম বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

 

এর আগে জমিটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, আদালতে বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় জমিটি দখলে নিয়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে। জমির মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাসের দাবি, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ জানিয়েছিলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখে আসছেন।

 

এ বিষয়ে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে এর আগে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। মুঠোফোনে কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবু হানিফ তখন বলেছিলেন, শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। জমিসংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে তার দায় দল নেবে না।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৪৭:১৪ ● ২৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ