শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬

কলাপাড়ায় মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

হোম » জেলে-মৎস্য » কলাপাড়ায় মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা
শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬


 

কলাপাড়ায় মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে। বালিয়াতলী ইউনিয়নের লেমুপাড়া গ্রামে বেড়িবাঁধসংলগ্ন চার একর আয়তনের একটি ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন মাছচাষিরা।

 

মাছচাষিদের দাবি, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালের মধ্যে কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে। এতে রুই, কাতলা, গ্লাস কার্প, মৃগেল, চিংড়ি, কোরাল ও বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়।

 

সরেজমিনে ঘেরের পানিতে মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরপর আরও মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠছিল। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঘেরের মাছচাষি মঞ্জু সিকদার ও সজীব তালুকদার।

 

মাছচাষি সজীব তালুকদার অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাতে ঘের পাহারা দেওয়ার সময় পানিতে কিছু ছিটানোর শব্দ শুনতে পান তিনি। পরে আলো জ্বালিয়ে বকু তালুকদার, মুসফিক তালুকদার, জাহাঙ্গীর হোসেন, ফোরকান মাঝি ও আনোয়ার গাজীকে ঘেরে ওষুধ প্রয়োগ করতে দেখেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

সজীবের ভাষ্য, পরে স্থানীয় আরও দুজনকে ডেকে অভিযুক্তদের আটকানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হন। সকালে ঘেরের মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

 

অপর মাছচাষি মঞ্জু সিকদার বলেন, তাঁরা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ওই ঘেরে মাছ চাষ করছেন। জমিজমা নিয়ে বকু তালুকদারের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর আগেও তাঁদের ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে এবং বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মঞ্জু। তাঁর হিসাবে, এবারের ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে বকু তালুকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২২:১৩ ● ১০ বার পঠিত