শুক্রবার ● ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানের দুল নিয়ে বিরোধ, হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ
হোম » ভোলা » কানের দুল নিয়ে বিরোধ, হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
ভোলার চরফ্যাশনে স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাছিমা নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের আরও চারজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের চর নলুয়া গ্রামের আলমগীর বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার আবদুল মাঝি ও আলমগীর বেপারীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আবদুল মাঝির স্ত্রী পান্না, ছেলে রাকিব ও হেলালসহ কয়েকজন একত্রিত হয়ে আলমগীর বেপারীর স্ত্রী মাইনুর বেগম, মেয়ে বকুল ও জান্নাতকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
তাদের চিৎকার শুনে আলমগীরের আরেক মেয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাছিমা এগিয়ে এলে রাকিব, তার মা পান্না ও হেলাল তাকে পেটে ও পিঠে লাথি এবং কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে নাছিমা গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
নাছিমাকে উদ্ধার ও সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুই পক্ষের আরও চারজন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাকলুকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে নাছিমার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতের কারণে তার গর্ভের সন্তান মারা যায় বলে জানা গেছে।
নাছিমার স্বামী বাচ্চু বলেন, তিনি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। হামলায় আহত হওয়ার পর নাছিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন। আহত অপর চারজনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাকলুকুর রহমান বলেন, ‘মারধরের শিকার হওয়ায় নাছিমাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। পরে থ্রেটেড অ্যাবরশন পাওয়ায় তাকে প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়া এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখে ইনকমপ্লিট অ্যাবরশন হওয়ায় ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ করা হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাকিব ও আবদুল মাঝির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। গর্ভের শিশু মৃত্যুর অভিযোগটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দুঃখজনক। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৫:২৪ ● ২৩ বার পঠিত
