বুধবার ● ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাউখালীতে শ্রীগুরু সংঘের সাবেক কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগ

হোম » পিরোজপুর » কাউখালীতে শ্রীগুরু সংঘের সাবেক কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগ
বুধবার ● ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

কাউখালীতে শ্রীগুরু সংঘের সাবেক কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কাউখালী (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে শ্রীগুরু সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রমের তহবিল তছরুপ, অনিয়ম এবং আশ্রমের পরিবেশ অশান্ত করার অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির বহিষ্কৃত সাবেক কোষাধ্যক্ষ বিপুল বরণ ঘোষ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিপুল বরণ ঘোষ দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কাউখালীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আশ্রমের পরিচালনা কমিটি ও সাধারণ ভক্তদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে আশ্রমের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ মণ্ডল লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিপুল বরণ ঘোষ আশ্রমের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকাকালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থনৈতিক দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তহবিল তছরুপসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে আশ্রম থেকে আইনানুগভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আশ্রমের ১ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিপুল বরণ ঘোষের বিরুদ্ধে পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

 

আশ্রম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে বিপুল বরণ ঘোষ ও তাঁর অনুসারীরা আশ্রমের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করছেন। প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, গত ৫ আগস্টের পর ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সংঘর্ষবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় বিপুল বরণ ঘোষকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে বের হয়ে আশ্রমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন আশ্রম কর্তৃপক্ষ।

 

তাদের দাবি, বিপুল বরণ ঘোষ ও তাঁর অনুসারীদের কর্মকাণ্ডে আশ্রমের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে আশ্রমের সম্পদ ও ভক্তদের অনুদান লুটপাটের একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অভিযোগের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে তদন্ত করছে। প্রশাসনের আইনানুগ ও নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রতি আশ্রম কর্তৃপক্ষ আস্থা প্রকাশ করে।

 

এ সময় অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আসন্ন বার্ষিক উৎসব শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিপুল বরণ ঘোষ বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি মঙ্গলবার আশ্রমে প্রবেশ করিনি। জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে আমরা কয়েকজন সদস্য আশ্রমে গেলে আশ্রমের গেটে আমাদের বাধা দেওয়া হয়। সেখান থেকে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চলে আসি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো হত্যা মামলা নেই। আশ্রম থেকে অর্থ তছরুপের যে মামলা করা হয়েছিল, মহামান্য জজ আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন।’

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৮:৫৮ ● ১৬ বার পঠিত