বুধবার ● ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে সৌরবিদ্যুতের দাবি
হোম » খুলনা » রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে সৌরবিদ্যুতের দাবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মোংলা (বাগেরহাট)
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের পাঁচ নদীর মোহনা থেকে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ বার্তা নিয়ে একক পদযাত্রায় বের হওয়া কোস্টাল ট্রাভার্স মাসফিকুল হাসান টনি উপকূলীয় অভিযাত্রার তৃতীয় দিনে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মোংলায় পৌঁছেছেন।
মোংলায় পৌঁছালে স্থানীয় বনজীবী, জেলে, বাওয়ালি-মাওয়ালি ও পরিবেশকর্মীরা তাঁকে ফুল ও ফুলের মালা দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। পরে বাগেরহাটের মোংলার কানাইনগর এলাকায় পশুর নদীর তীরে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের যৌথ উদ্যোগে পদযাত্রা, মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর দাবি জানান বক্তারা। তাঁরা বলেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর নীতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। বরং এ ধরনের জ্বালানি ব্যবহার জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত করে পরিবেশের ক্ষতি করছে।
বক্তারা আরও বলেন, জ্বালানি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
সংহতি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পরনির্ভরশীল জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে আগে থেকেই সৌরবিদ্যুতে অর্থায়ন করা হলে আজকের বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হতো না। চারদিকে পানি থাকলেও উপকূলজুড়ে খাবার পানির তীব্র সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিত্যদিনের সঙ্গী। তাই সৌরবিদ্যুৎ চালু ও জলবায়ু অভিযোজনে অর্থায়ন এখন সময়ের দাবি।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কোস্টাল ট্রাভার্স মাসফিকুল হাসান টনি, জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ধরা নেতা নাজমুল হক, জানে আলম বাবু, ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের মো. সোহেল ও মোহাম্মদ শাহীন খলিফা, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র ডলার মোল্লা ও মেহেদী হাসান এবং বিডি ক্লিনের আবু হাসান।
উল্লেখ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, নিরাপদ পানি ও জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে ‘ধরা’ ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর নেতৃত্বে ৩৭টি নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ শুরু হয়।
১৯ দিনের এ পদযাত্রা শ্যামনগর, কয়রা, নলিয়ান, দাকোপ ও বানিশান্তা হয়ে মোংলায় পৌঁছেছে। এরপর এটি পাথরঘাটা, কুয়াকাটা, চরফ্যাশন, নোয়াখালী ও কক্সবাজার হয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে গিয়ে শেষ হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২০:০৩:০২ ● ১৯ বার পঠিত
