মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬

কুয়াকাটা উপকূলে জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল ‘লাল কোট’ মাছ

হোম » কুয়াকাটা » কুয়াকাটা উপকূলে জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল ‘লাল কোট’ মাছ
মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬


কুয়াকাটা উপকূলে জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল ‘লাল কোট’ মাছসাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির ‘লাল কোট’ বা ‘সৈনিক মাছ’। উজ্জ্বল লাল রঙ ও ব্যতিক্রমী গঠনের এ মাছটি আলীপুর মৎস্য বন্দরে আনার পর একনজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

 

জেলে সূত্রে জানা গেছে, গত পরশু গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া এফবি জারিফ-৪ ট্রলারে মাঝি আসাদ মাঝির জালে মাছটি ধরা পড়ে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে মাছটি আলীপুর মৎস্য বন্দরের ‘মায়ের দোয়া’ ফিশ গদিতে নিয়ে আসা হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় ক্রেতা মোহাম্মদ ছগির আকন মাছটি এক হাজার টাকায় কিনে সংরক্ষণ করেন। তিনি বলেন, মাছটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর ও ব্যতিক্রম। তাই সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই এটি কিনেছি। এমন বিরল মাছ মানুষের আগ্রহেরও কেন্দ্রবিন্দু।

 

ট্রলার মাঝি আসাদ মাঝি বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় জালে মাছটি উঠে আসে। আগে এ ধরনের মাছ খুব একটা দেখিনি। মাছটির রঙ দেখে প্রথমে আমরাও অবাক হয়ে যাই।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এর আগেও কুয়াকাটা উপকূলে বিভিন্ন সময়ে বিরল ও ভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এমন মাছের সংখ্যা বাড়ছে বলে তাদের ধারণা। এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার দাবি জানান তারা।

 

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (ডব্লিউসিএস) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সৈনিক মাছ (Sargocentron rubrum), যা ইংরেজিতে Redcoat Squirrelfish নামে পরিচিত, Holocentridae পরিবারের একটি আকর্ষণীয় সামুদ্রিক মাছ। বাংলাদেশে এটি সৈনিক মাছ, লাল সৈনিক মাছ বা লাল কোট নামে পরিচিত।

 

তিনি জানান, উজ্জ্বল লাল রঙ, শরীরজুড়ে রূপালি-সাদা ডোরাকাটা দাগ এবং বড় চোখ এ মাছের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এটি মূলত নিশাচর এবং বঙ্গোপসাগরসহ ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবাল প্রাচীর, পাথুরে তলদেশ ও রিফ-সংলগ্ন অগভীর সামুদ্রিক এলাকায় বসবাস করে। ছোট চিংড়ি, কাঁকড়া ও অন্যান্য তলদেশীয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে সামুদ্রিক খাদ্যজালের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আকর্ষণীয় রঙের কারণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যবসায় এ মাছের চাহিদা রয়েছে। স্থানীয়ভাবেও এটি খাদ্য মাছ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

 

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের বিচরণ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সাগরের পরিবেশগত পরিবর্তন এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার পরিধি বাড়ার কারণে মাঝেমধ্যে এমন বিরল প্রজাতির মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। এসব মাছের তথ্য সংরক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা ভবিষ্যতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:২২:১৬ ● ২৩ বার পঠিত