রবিবার ● ২ আগস্ট ২০২৬
কলাপাড়ায় মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুরবাড়ির ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
হোম » আইন-আদালত » কলাপাড়ায় মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুরবাড়ির ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ব্ল্যাংক নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া, মারধর, হত্যাচেষ্টা, মোবাইল ফোন ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শ্বশুর-শাশুড়ি, স্ত্রীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের ১১ নম্বর হাওলা বানাতীবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. নূর সায়েত হাওলাদার (৪১)। কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন- মো. রাহান (২০), মো. জাফর রাজা (৫০), মো. ইউসুফ প্যাদা (৫৬), মো. রাকিব (২২), মো. মিন্টু প্যাদা (৪০), মো. মিন্টু রাঢ়ী (৪৪), শিরিনা বেগম (৪২) ও জুলিয়া বেগম (২৩)। তাদের সবার বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের হাচনাপাড়া ১৩ নম্বর আবাসনে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে জুলিয়া বেগমের সঙ্গে নূর সায়েত হাওলাদারের বিয়ে হয়। বিয়ের আগ থেকেই শ্বশুর জাফর রাজার সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা চলমান ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৪ মে রাতে আপস-মীমাংসার কথা বলে তাকে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আগের মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় দুটি ১০০ টাকার ব্ল্যাংক নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, ব্যাংকের চেকবই ও ব্যাগে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. নূর সায়েত হাওলাদার বলেন, ‘আসামিরা বর্তমানে ঢাকায় পলাতক রয়েছে। পুলিশ এখনো তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হামিদুল হক খান বলেন, ‘মামলাটি তদন্ত শেষে চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলো বাদীর এজাহার ও মামলার নথিতে উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:২০:১১ ● ৩৭ বার পঠিত
