শনিবার ● ১ আগস্ট ২০২৬
পুনঃখননে প্রাণ ফিরেছে গৌরনদীর বাটাজোড়-সরিকল খালে, কৃষি-সেচে মিলছে সুফল
হোম » বরিশাল » পুনঃখননে প্রাণ ফিরেছে গৌরনদীর বাটাজোড়-সরিকল খালে, কৃষি-সেচে মিলছে সুফল
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাটাজোড়-সরিকল খাল পুনঃখননের সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন পলি জমে নাব্যতা হারানো খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষি, সেচব্যবস্থা, মৎস্যসম্পদ, পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা দেখা দিয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত থাকায় বর্ষায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ত। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকটে কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পুনঃখননের ফলে খালটি এখন স্বাভাবিকভাবে পানি ধারণ ও প্রবাহের সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব আলী শেখ বলেন, খাল পুনঃখনন কৃষির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আগে সময়মতো চাষাবাদ করা কঠিন ছিল। এখন সেচব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বেশি জমিতে আবাদ করা সম্ভব হবে। এতে উৎপাদন ও কৃষকের আয়-দুটিই বাড়বে।
কৃষক নিতাই মালি বলেন, আগে বছরে দুই মৌসুমে চাষ হতো। এখন পর্যাপ্ত পানির কারণে তিন মৌসুমে চাষাবাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মো. কামাল ফকির শনিবার (১ আগস্ট) গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, খাল পুনঃখননের সুফল শুধু কৃষিতে নয়, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। কৃষি ও মৎস্য-উভয় খাতই উপকৃত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা অধীর বর্ধন বলেন, পানির প্রবাহ অনেক বেড়েছে। এতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এলাকাবাসী এ উদ্যোগে আনন্দিত।
গত ১৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পুনঃখননকৃত বাটাজোড়-সরিকল খালের তীরে নারিকেল গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম. জহির উদ্দিন স্বপন একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় খালের দুই তীরে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা বর্তমানে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম বলেন, ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্দেশ্য ছিল পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জলাবদ্ধতা দূর করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। খালের দুই তীরে রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করছে। কোথাও পাড় ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় খাল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সুফল দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের মতে, খালের দুই তীরে রোপণ করা গাছ বড় হলে মাটি ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রত্যাশা, খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে কৃষি, মৎস্য, সেচ, নৌ-যোগাযোগ ও পরিবেশ-সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:৫৬:০৭ ● ২১ বার পঠিত
