শনিবার ● ১ আগস্ট ২০২৬
সৌদির সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ: কেন এই উদ্যোগ, লক্ষ্য কী
হোম » বিশ্ব » সৌদির সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ: কেন এই উদ্যোগ, লক্ষ্য কী
সাগরকন্যা ডেস্ক
লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ নিয়ে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। জোটটির মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা।
গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ জোট গঠনের ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন এ জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জোট গঠনের আলোচনায় ৫১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ৪৩টি দেশ অংশ নেয়। প্রাথমিকভাবে সৌদি আরব, বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও নাইজেরিয়াকে নিয়ে এই জোট গঠন করা হয়েছে।
জোট গঠনসংক্রান্ত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান।
কেন এই উদ্যোগ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পরিচালিত হয়। এই পথ ভূমধ্যসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। ফলে এ নৌপথে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগর ব্যবহার শুরু করে। তবে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি জাহাজের ওপর হামলা ও নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ায় লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব ও এডেন উপসাগরেও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নৌপথ সুরক্ষায় বহুজাতিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় রিয়াদ।
জোটের লক্ষ্য কী
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, জোটের প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো-
লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
ভারত মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা বজায় রাখা।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও নিরাপত্তা তথ্য বিনিময় জোরদার করা।
যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রয়োজনীয় সমন্বিত সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি।
তবে সদস্য দেশগুলো কী ধরনের যুদ্ধজাহাজ, বিমান বা সামরিক সক্ষমতা দেবে এবং জোটের সদর দপ্তর কোথায় হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ বহন করে
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা-পর্যালোচনার পর বাংলাদেশ এ জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। কারণ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সাধারণত কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা জোটে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়নি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)-এর সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের স্বার্থ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এই জোটে যুক্ত হলেও বাংলাদেশকে এমনভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে না পড়ে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ইসলামি সামরিক জোট (আইএমসিটিসি)-এ যোগ দিলেও সেখানে পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল পাঠায়নি। নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা তাই কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:১৩:২৭ ● ১৯ বার পঠিত
