শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬
কপোতাক্ষ তীরের উপকূল রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে দক্ষিণ বেদকাশীর বাসিন্দারা
হোম » খুলনা » কপোতাক্ষ তীরের উপকূল রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে দক্ষিণ বেদকাশীর বাসিন্দারা
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)
খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদ তীরবর্তী উপকূল রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ারের তীব্র চাপ ও নদীর স্রোতে বাঁধের একাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে উচ্চ জোয়ারে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও মাছের ঘের প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের পাশে সরকারি পুকুরসংলগ্ন আংশিক গোলখালী এলাকায় কয়েকদিন ধরে নদীর তীব্র স্রোত ও জোয়ারের চাপে বাঁধের একাধিক স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন জোয়ারের সময় বাঁধের পাদদেশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ভাঙনের পরিধি বাড়ছে। এতে দক্ষিণ বেদকাশীর কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা-২ প্রকল্পের ৩৮ নম্বর প্যাকেজের আওতায় কাজ চলমান রয়েছে। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভাঙন দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির হামজা বলেন, কয়েকদিন আগে সরকারি পুকুরের উত্তর পাশে ভাঙন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি বস্তা ফেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু তিন নদীর মোহনায় অবস্থানের কারণে জোয়ারের পানির প্রবল চাপে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
এলাকাবাসী জানান, অতীতেও কয়েকবার বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। সেই দুর্ভোগের স্মৃতি এখনও তাদের তাড়া করে বেড়ায়। তাই নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে বাঁধটি রক্ষা করা হোক।
দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গণি খোকন বলেন, আমার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি পুকুরের উত্তর পাশে উপকূল রক্ষা বাঁধ দেবে গিয়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উচ্চ জোয়ারে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা-২ প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ভাঙনকবলিত স্থানে দ্রুত বালুভর্তি বস্তা ফেলে জরুরি মেরামতের কাজ চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ওই স্থানে ঠিকাদারি কাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে কিছু প্রতিরোধমূলক কাজ করেছি। নতুন করে ভাঙনের খবর পেয়েছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিজমি ও সম্পদ রক্ষায় বাঁধটির স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চলতি বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:২৯:২৮ ● ৩১ বার পঠিত
