মঙ্গলবার ● ২৮ জুলাই ২০২৬
জিওব্যাগেও ঠেকছে না মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি
হোম » পটুয়াখালী » জিওব্যাগেও ঠেকছে না মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-ফসলি জমি
![]()
উত্তম গোলদার, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) থেকে
বর্ষা শুরু হতেই পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীর তীব্র ভাঙন আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপজেলার রামপুর, ভিকাখালী, পিপড়াখালী, হাজিখালী ও কাকড়াবুনিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতঘর, ফসলি জমি, মসজিদ ও বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিওব্যাগও কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিপড়াখালী গ্রামের খানবাড়ির পাকা মসজিদটি বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে। আশপাশের বসতঘর ও ফসলি জমিও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে। অনেক পরিবার ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, পিপড়াখালী এলাকায় পায়রা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিবছর ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। এতে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে মির্জাগঞ্জ উপজেলার আয়তন।
ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কাকড়াবুনিয়া লঞ্চঘাট ও বাজার এলাকা। এছাড়া মেন্দিয়াবাদ ও পিপড়াখালী গ্রামের অস্তিত্বও হুমকির মুখে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি, অসংখ্য বসতঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
পিপড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল হাওলাদার বলেন, ‘এ এলাকায় সারা বছরই নদীভাঙন চলে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যতবারই বাঁধ নির্মাণ করে, ততবারই তা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেও ভাঙন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পিপড়াখালী পরিবার’-এর কর্মকর্তা মো. সুলতান আহম্মদ বলেন, ‘পিপড়াখালী ও সুন্দরকলিকাপুর এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। পিপড়াখালী বাজার প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন।’
পিপড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ মজুমদার সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘পায়রা নদীর ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি একাধিকবার অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। কিন্তু ভাঙন যেন থামছেই না।’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, ‘মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীর প্রায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন রয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিই পায়রা নদী তীরবর্তী। পিপড়াখালী এলাকার ভাঙনকবলিত মসজিদ রক্ষায় মঙ্গলবার থেকে জিওব্যাগ ফেলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ৬:২২:২৮ ● ৭ বার পঠিত
