শনিবার ● ২৭ জুন ২০২৬

কলাপাড়ায় ৩০ বছর ধরে পানি টেনে জীবিকা, সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রেহানা

হোম » বিশেষ প্রতিবেদন » কলাপাড়ায় ৩০ বছর ধরে পানি টেনে জীবিকা, সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রেহানা
শনিবার ● ২৭ জুন ২০২৬


 

কলাপাড়ায় ৩০ বছর ধরে পানি টেনে জীবিকা, সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রেহানা

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া থেকে (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাসনাপাড়া কলোনির বাসিন্দা রেহানা বেগম। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কলসিতে পানি বহন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। বয়সের ভার ও নানা শারীরিক জটিলতায় এখন আর আগের মতো কাজ করতে না পারলেও জীবনের তাগিদে প্রতিদিনই বের হতে হয় তাকে।

 

জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে কলাপাড়া পৌর এলাকায় পানি সরবরাহের কাজ শুরু করেন রেহানা। প্রথম দিকে কোমরে কলসি বহন করে পানি পৌঁছে দিলেও বর্তমানে একটি পুরোনো ভ্যানগাড়িতে করে বিভিন্ন বাসাবাড়ি, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় নিরাপদ পানি সরবরাহ করেন। টিউবওয়েল ও গভীর পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছেন রেহানা বেগম। দীর্ঘদিন পানি বহনের কাজ করায় এলাকায় তিনি ‘পানি বুয়া’ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, পরিশ্রমী এই অসহায় নারী সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য।

 

প্রতিবেশী মাহিনুর বলেন, ‘রেহেনা বুয়া পানি টানতে টানতে অনেকটা রোগাক্রান্ত হয়ে গেছেন। তার ভ্যান গাড়িটি অনেকটা অচল। ঘরের অবস্থাও খারাপ। তার সহায়তা প্রয়োজন।’

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী শেখ রিগার্ড বলেন, ‘রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে প্রতিনিয়ত কল চেপে ৫০ থেকে ১০০ কলস পানি সংগ্রহ করেন পানি বুয়া। চোখের সামনে দেখলে যে কারও অনেক কষ্ট লাগবে। আমার সম্বল থাকলে তাকে সহায়তা করতাম। সমাজের বিত্তবানদের তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

 

জীবনসংগ্রামী রেহানা বেগম বলেন, ‘আমার শরীরের অবস্থা ভালো না। ঘরটাও ভাঙা। যদি সমাজের বিত্তবান লোকরা আমার ঘর ও ভ্যান মেরামত করে দিতেন, তাহলে কাজ করে বাঁচতে পারতাম।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন পানি টানার কাজ করে গড়ে ৩০০ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে কিছু টাকা ভ্যান মেরামতে খরচ করতে হয়। এরপর যে টাকা থাকে, তা দিয়ে কোনো রকম বেঁচে আছি।’

 

কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘রেহেনাকে বিধবা ভাতার আওতায় আনার পাশাপাশি সরকারি সব সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, ‘রেহানা নামের ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে পানি টানার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি ভূমিহীন। এজন্য তাকে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩১:১০ ● ২৪ বার পঠিত