নতুন আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় সড়কে প্রাণহানী বাড়ছে

প্রথম পাতা » জাতীয় » নতুন আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় সড়কে প্রাণহানী বাড়ছে
মঙ্গলবার ● ১৬ এপ্রিল ২০১৯


নতুন আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় সড়কে প্রাণহানী বাড়ছে

ঢাকা সাগরকন্যা অফিস॥

 সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ মাঠপর্যায়ে শিগগির কার্যকর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ এখনো বিধিমালা করা হয়নি। পাশাপাশি ওই আইন কার্যকর না করতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা নানামুখী চাপ সৃষ্টি করছে। অথচ জাতীয় সংসদে আইনটি পাসের প্রজ্ঞাপন জারির প্রায় ৭ মাসেও বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। তাতে শিগগিরই নতুন আইন বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। ফলে সড়কে প্রাণহানী বাড়ছে। দিনে কমপক্ষে ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটছে। অভিযান চালিয়েও ঢাকার সড়কে বিশৃঙ্খলা কমানো যাচ্ছে না। বরং দিন দিন বাড়ছে। এমনকি অভিযানে ঢাকায় পরিবহন মালিকরা জরিমানা ও শাস্তির প্রতিবাদে বাস বন্ধ রেখে বিপর্যয় তৈরি করেছে। জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। সড়ক পরিবহন খাত এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পরিবহন মালিকদের চাপে নতুন আইনের প্রক্রিয়া ও প্রস্তাব ১১ বছর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। আইনের খসড়াটি ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর বিভিন্ন ধারা সংশোধনের দাবিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বিভিন্ন জেলায় ধর্মঘট পালন করে। তারপর গত বছরের জুলাই ও আগস্টে নিরাপদ সড়কের দাবিতে খুদে শিক্ষার্থীদের ৯ দিনের টানা আন্দোলনের পর ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের খসড়া অনুমোদন হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের বিরোধিতা করে ২৮ অক্টোবর থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট করে। অবশ্য পরে ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হয়। প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় ৮ অক্টোবর। সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের ১(২) ধারায় বলা হয়েছে, সরকার গেজেটের মাধ্যমে যে তারিখ নির্ধারণ করবে, সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হবে।  কিন্তুআইন কার্যকরের তারিখ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় আইনটি কার্যকর হচ্ছে না। নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করতে অতিসম্প্রতি সরকারের প্রতি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে আইনি নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টেও এক আইনজীবী। তাতে আইন কার্যকর করতে ৭ দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করতে বলা হয়। মন্ত্রিপরিষদসচিবসহ ৮ সচিবকে এ নোটিশ দেয়া হয়। তারপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিন মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটির বৈঠক হয়। বিগত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নতুন আইন বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ নির্ধারণ ও বাস্তবসম্মত সমাধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নেতৃত্বে ওই কমিটি করা হয়। কমিটিতে আরো আছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। কিন্তু কমিটি গঠনের প্রায় দুই মাস পর অতিসম্প্রতি প্রথম বৈঠক হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইনের যেসব ধারা নিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের আপত্তি রয়েছে সেগুলো দেখা হচ্ছে। এটাকে আরেকটু ভালো করে দেখে অংশীজনদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক করা হবে। আইনে কিছু যোগ-বিয়োগ করতে হলে তা পর্যালোচনার পর বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি বিধি প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান।
সূত্র জানায়, দেশের পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণকারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বিভিন্ন মালিক সমিতি দ্রুতই তাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন আইনের বিভিন্ন ধারায় শাস্তি ও জরিমানা কমাতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা আইন প্রণয়নের আগে থেকেই আন্দোলন করে আসছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও তারা মাঠে আন্দোলন করেছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারকারী পরিবহন মালিকদের একটি চক্র দ্রুত বিধিমালা করতে বাধা দিচ্ছে বলে জানা যায়।
এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বোঝাপড়া না হলে এ আইন বাস্তবায়িত হবে না। দ্রুতই আগামী পরিবহন শ্রমিকদের দাবিগুলো আবারো সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দেয়া হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে সভাপতি করে গঠিত ২২ সদস্যের কমিটি ইতিমধ্যে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ১১১টি সুপারিশ তৈরি করেছে। তার মধ্যে দ্রুত সময়ে সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা প্রণয়ন করে প্রজ্ঞাপন জারির সুপারিশও রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান জানান, এক মাসের মধ্যে বিধিমালা তৈরি করা যাবে। তারপর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো। সেটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। বিআরটিএ কোনো পক্ষের চাপে নেই।

এফএন/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৫:৫৮ ● ৩৫৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ