বরিশাল নগরীর সব সিসি ক্যামেরা অচল: বাড়ছে অপরাধ

প্রথম পাতা » বরিশাল » বরিশাল নগরীর সব সিসি ক্যামেরা অচল: বাড়ছে অপরাধ
সোমবার ● ৮ এপ্রিল ২০১৯


---

বরিশাল সাগরকন্যা অফিস॥
বরিশাল নগরীর ত্রিশটি ওয়ার্ডবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণস্থানে স্থাপিত ২৬১টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার সবগুলোই অচল হয়ে পরেছে। দীর্ঘদিন থেকে ক্যামেরাগুলো বিকল থাকার কারণে নগরীতে দিনে-দুপুরে অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এমনকি অপরাধী চক্রও ক্রাইম সংঘটিত করে অনেকটা নিরাপদে পালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধ দমন ও অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে পারছেন না। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন অপরাধ প্রবণতার তদন্তে নেমেও অপরাধীদের শনাক্ত করতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছেন। সূত্রমতে, অতিসম্প্রতি নগরীর জেলেবাড়ির পোল নামক এলাকায় একটি প্লাস্টিক কারখানার ম্যানেজারকে প্রকাশ্যে মারধর করে আট লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার পর সিসি ক্যামেরা বিকল থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কাউনিয়া থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ছিনতাই স্পটের আশপাশে সিটি কর্পোরেশনের স্থাপিত বেশ কয়েকটি সিসি ক্যামেরা রয়েছে কিন্তু সবগুলো ক্যামেরাই অচল হওয়ার কারণে ছিনতাইয়ের কোন দৃশ্য ধারণ হয়নি। ফলে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিক্টিমের বর্ণনা অনুসারে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্ঠা চলছে। এ ছিনতাইয়ের ঘটনার পর নগরবাসী জরুরি ভিত্তিত্বে সিসি ক্যামেরা সচল করতে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছে জোর দাবি করেছেন। সচেতন নগরবাসীর মতে, দ্রুত সিসি ক্যামেরা সচল না করা গেলে অপরাধের মাত্রা দিনেদিন আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরবাসীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনা ঘিরে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। যার অংশ হিসেবে শহরের ৩০টি ওয়ার্ডে দুই কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬১টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল তৎকালীন মেয়র আহসান হাবিব কামাল আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ক্যামেরা উদ্বোধন করেন। এমনকি ওইসময় এসব ক্যামেরা তদারকির জন্য আটটি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপনের কাজ করেছিল বিসিসি। কিন্তু উদ্বোধনের পর দুই মাসের মাথায় এসব ক্যামেরার প্রায় ৮০ ভাগ সংযোগ তার (অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল) চুরি হয়ে যায়। আবার বেশ কিছু ক্যামেরায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে এসব ক্যামেরাগুলো সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পরে। পরবর্তীতে অচল ক্যামেরাগুলো সচল করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। যে কারণে সিসি ক্যামেরাগুলো বিকল হয়েই পরে রয়েছে। সিটি কর্পোরেনের প্রকৌশল বিভাগও নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপন জরুরি বলে মনে করছেন। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ার আগে অচল সিসি ক্যামেরা সচল করা সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন। কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) খাইরুল আলম বলেন, আমি যোগদানের অনেক আগে ক্যামেরাগুলো বসানো হওয়ায় বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তার পরেও বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সিটি মেয়র সেরনিয়বাত সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে কথা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনে বরাদ্দ আসলেই অচল ক্যামেরা সচলে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩:০২:৫০ ● ৬৭০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ