নিউ জিল্যান্ড সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভালোবাসে

প্রথম পাতা » বিশ্ব » নিউ জিল্যান্ড সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভালোবাসে
সোমবার ● ২৫ মার্চ ২০১৯


---

সাগরকন্যা আর্ন্তজাতিক ডেস্ক॥

ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৩ মার্চ) বড় ধরনের স্মরণ অনুষ্ঠান করেছেন নিউ জিল্যান্ডবাসী। ক্রাইস্টচার্চ এলাকাতেই ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদিন সেখানে যোগ দেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। নিউ জিল্যান্ডবাসীর এ ভালোবাসায় মুগ্ধ সংখ্যালঘু মুসলিমরা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।
১৫ মার্চ (শুক্রবার) ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদ। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদসহ লিনউডের আরেকটি মসজিদে তার তা-বের বলি হয় অর্ধশত মানুষ। এরমধ্যে ৪০ জনেরও বেশি নিহতকে ক্রাইস্টচার্চের নিউ পার্ক সমাধিতে দাফন করা হয়েছে। হামলার পর থেকেই এর নিন্দা জানিয়ে নিহতদের প্রতি ধারাবাহিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন নিউ জিল্যান্ডবাসী। হামলার প্রায় ১০ দিনের মাথায় শনিবার (২৩ মার্চ) আয়োজন করা হয় বিশাল স্মরণ অনুষ্ঠান ও জমায়েতের।
শনিবার সন্ধ্যায় লিনউড মসজিদের ইমাম আলাবি লতিফ জিরুল্লাহ ইসলামি দোয়ার মধ্য দিয়ে স্মরণ অনুষ্ঠান শুরু করেন। এরপর হামলায় নিহত ৫০ মুসল্লির নাম একে একে পড়ে শোনানো হয়। সবার আগে আসে নিহত তিন বছর বয়সী শিশু মুকাদ ইব্রাহিমের নাম।
মাওরি ভাষাভাষি এক ব্যক্তি বলেন, ‘এসব মানুষ শরণার্থী ও অভিবাসী হিসেবে এখানে এসেছেন। সবার মধ্যকার এ স্পৃহা ‘আওরাকি’র চূড়া (নিউ জিল্যান্ডের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কুকের মাওরি নাম)’ পর্যন্ত পৌঁছাক। আর সেখান থেকে তা আমাদের দেখুক এবং শান্তি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দিক।’
মুসলিমদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে অনেক অমুসলিম নারীও মাথায় হিজাব পরে স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন
হামলার ঘটনায় যারা প্রাণে বেঁচে গেছেন, তারাও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিউ জিল্যান্ডের ঐক্যের প্রশংসা করেছেন। এদেরই একজন মুস্তফা বোজতাস। আল নূর মসজিদের হামলায় প্রাণে বেঁচে গেছেন ২১ বছর বয়সী এ তরুণ। তিনি বলেন, ‘নিউ জিল্যান্ডের প্রায় ৫০ লাখ জনসংখ্যার মাত্র ১ ভাগ মুসলিম। আর এ সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভালোবাসে নিউ জিল্যান্ডবাসী।’
হামলার সময় পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বোজতাস। হুইল চেয়ারে করে শনিবারের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। আল জাজিরাকে বোজতাস বলেন, ‘এ হামলার ঘটনা আমাদের একত্র করেছে, আমরা এক হয়েছি’।
এর আগে শনিবার সকালে নিউ জিল্যান্ডের বড় শহর অকল্যান্ডে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে পদযাত্রা করেছেন ১ হাজারেরও বেশি মানুষ। ‘অভিবাসীদের জীবনের দাম আছে’ এবং ‘এখানে শরণার্থীদের স্বাগত জানানো হয়’ লেখা প্লেকার্ড হাতে তারা সমাবেশ করেন।
হামলায় প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন, এরমধ্যে ২৪ জনকে এখনও ক্রাইস্টচার্চের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্মরণ অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে মাথায় হিজাব পরে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন গ্লেন্ডা জয়। তার জীবনসঙ্গী একজন মুসলিম। হামলায় বেশ কয়েকজন বন্ধুকে হারিয়েছেন গ্লেন্ডা জয়ের স্বামী। এ ব্যাপারে গ্লেন্ডা আল জাজিরাকে জানান, ওই ঘটনার পর থেকে তার স্বামী খুব চুপচাপ হয়ে গেছেন। তিনি হামলার ঘটনা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন, তবে অনেকদিন সময় লেগে যেতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৪৭:১৬ ● ৪৫৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ