গৌরনদীতে কোটি টাকা হাতিয়ে ভূঁয়া এনজিও উধাও!

প্রথম পাতা » বরিশাল » গৌরনদীতে কোটি টাকা হাতিয়ে ভূঁয়া এনজিও উধাও!
শুক্রবার ● ৩১ ডিসেম্বর ২০২১


গৌরনদীতে কোটি টাকা হাতিয়ে ভূঁয়া এনজিও উধাও!

গৌরনদী (বরিশাল) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

ঋণ দেওয়ার নামে গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও বেকার যুবকদের কাছ থেকে সঞ্চয়  ও জামানত তুলে বরিশালের গৌরনদীতে আর.কে ফাউন্ডেশন নামের একটি ভূয়া এনজিও তিন শতাধিক সদস্য’র (গ্রাহকের) প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। ফলে প্রতারিত সদস্যরা হতাশ হয়ে পড়েছে। প্রতারকদের খুজে বের করার ও টাকা উদ্ধারের জন্য ভূক্তভোগীরা স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ এবং উপজেলা ও থানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ভূক্তভোগী কয়েকজন সদস্য জানান, উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের ইতালী প্রবাসী টুটুল হাওলাদারের তিনতলা ভবনের নিচতলা ভাড়া নেয় আর.কে নামের বেসরকারি একটি এনজিও।  বিগত ১০ ডিসেম্বর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ঘেঁষা ওই ভবনে এনজিও’র সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে নিচতলায় চেয়ার ও টেবিল, ২টি কম্পিউটার বসিয়ে একজন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, তিনজন ফিল্ড অফিসার ও ২ জন কর্মচারী ওই এনজিও’র কার্যক্রম শুরু করেন। এনজিও কর্মকর্তারা ২টি মোটর সাইকেল যোগে উপজেলার বার্থী, তাঁরাকুপি, বাউরগাতি, রাজাপুর, নন্দনপট্টি, বাকাই, মাগুরা মাদারীপুর, রাজাপুর, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাশাইল,  চেঙ্গুটিয়া, বাহাদুরপুর, গোয়াইল, কালকিনি উপজেলার রাজধি, গোপালপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে এক হাজার টাকা করে সদস্য ভর্তি ফি নিয়ে তিন শতাধিক সদস্য ভর্তি করেন। এরপর সপ্তাহে প্রত্যেক সদস্যর কাছ থেকে একশত টাকা থেকে পাঁচশত টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় সংগ্রহ শুরু করেন। শতকরা ১০ টাকা হারে জামানত রাখার শর্তে সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ (লোন) দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সদস্য প্রতি ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা করে  জামানত নেয় এনজিও কর্মকর্তারা।  এ সুযোগে লোন প্রত্যাশী তিন শতাধিক সদস্যর কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এনজিও কর্তপক্ষ। গত ২৭ ডিসেম্বর প্রায় ৫০ সদস্যকে লোন দেওয়ার দিন ধার্য্য ছিল। লোন বিতরণের দিন জামানত ও সঞ্চয় টাকার রশিদ এবং  সদস্য ভর্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার কথা ছিল।
প্রতারিত বার্থী বাজারের মাছের আড়তদার সিরাজ হাওলাদার জানান,  গত ১৮ ডিস্মেবর তিনি খাঞ্জাপুর গ্রামস্থ ওই এনজিও’র অফিসে গিয়ে এক হাজার টাকা ভর্তি ফি দিয়ে সদস্য হন।   ২৮ ডিসেম্বর চার লাখ টাকা লোন দেওয়ার কথা বললে ফিল্ড অফিসার মিঃ শিশিরসহ ২ কর্মকর্তার কাছে ২৬ ডিসেম্বর নগদ ৪০ হাজার টাকা জামানত দেন। ২৭ ডিসেম্বর বার্থী গ্রামের অপর এক সদস্য লোন আনতে গিয়ে তাকে জানায় ওই এনজিও’র অফিস তালাবদ্ধ করে কর্মকর্তারা লাপাত্তা হয়ে গেছে।
ভূক্তভোগী (প্রতারিত) উপজেলার বাউরগাতি গ্রামের শওকত লস্কর, নন্দনপট্টি গ্রামের কামাল হাওলাদার, রাজাপুর গ্রামের সুজন হাওলাদার, আগৈলঝাড়া উপজেলার চেংগুটিয়া গ্রামের অশোক মন্ডল, রাব্বি সরদারসহ জানান, বেসরকারি এনসজিও আর.কে ফাউন্ডেশন সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার  কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করে জামানত নিয়েছে। গত ২৭ ডিসেম্বর সকালে বহু সদস্যদের মাঝে  ঋণ বিতরণের দিন ধার্য ছিলো। সে অনুযায়ী ঋণ গ্রহণের জন্য তারা খাঞ্জাপুর এনজিও’র কার্যালয়ে গেলে অফিস তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষনিক অফিসের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোঃ তৌহিদুল ইসলামের ০১৯৫১৩২২৫৪১ নম্বর ও ফিল্ড অফিসার মিঃ শিশিরের ০১৯৬৬৯৫৩৫৯৭ নম্বর মোবাইল ফোনে রিং দেওয়া হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তখন তারা প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
ওই ভবন মালিক টুটুল হাওলাদারের শ্বশুর স্থানীয় এচাহাক হাওলাদার জানান, তার মেয়ে জামাই প্রবাসে থাকায় কারণে তিনি (এচাহাক) ওই এনজিও’র কাছে ভবনের নিচতলা মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে ভাড়া দেন।  ১ জানুয়ারি ভাড়াটিয়াদের সাথে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। তবে ফার্নিসার রাখার জন্য ২০ ডিসেম্বর নিচতলার কক্ষের তালা খুলে দেয়া হয়েছিল।
গৌরনদী থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, সচেতন যুগে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন একটা এনজিও’তে টাকা দেবে কেন ? এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।  লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, অনেক লোকের টাকা নিয়ে ভূয়া এনজিও উধাও হওয়ার বিষয়টি লোক মুখে শুনেছি। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এজেআর/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২১:১৬:৫৪ ● ১৫০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ