
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি বিদায় অনুষ্ঠানের পর শ্রেণিকক্ষে ঢুকে আসবাবপত্র ভাংচুর করে টিকটকের জন্য ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পাঁচ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বাগধা (দাসপাড়া) মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের পরপরই কয়েকজন বিদায়ী শিক্ষার্থী সবার অগোচরে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে এ ঘটনা ঘটায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা শ্রেণিকক্ষের বৈদ্যুতিক ফ্যানের সুইচ চালু করে বেঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে ফ্যান ধরে ঝুলে সেটি বাঁকা করে ভেঙে ফেলে। এরপর দৌড়ে এসে লাথি মেরে শ্রেণিকক্ষের একাধিক বেঞ্চ উল্টে ফেলে ভাংচুর চালায়। এ সময় সহপাঠীরা পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরে টিকটক ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভিডিও দেখে অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে।
শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা হলো- চাদঁত্রিশিরা গ্রামের খোকন মীরের ছেলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্র নুর মোহাম্মদ, মো. রাসেল বক্তিয়ারের ছেলে আসিফ বক্তিয়ার, মো. জামাল সরদারের ছেলে সিয়াম সরদার, মো. এমদাদুল মিয়ার ছেলে আকাশ মিয়া এবং খাজুরিয়া গ্রামের বজলুল হকের ছেলে সহিবুল হক সম্রাট।
স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সভা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করেন।
অভিযুক্ত সহিবুল হক সম্রাট বলেন, ‘বিদায় অনুষ্ঠান শেষে আমরা কয়েকজন মিলে টিকটকের জন্য ভিডিও করেছি। তখন বুঝতে পারিনি, এখন বুঝেছি কাজটি ঠিক হয়নি।’
সহপাঠী আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, বিদায় অনুষ্ঠানের পর তারা শ্রেণিকক্ষে গিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে, এটি ঠিক হয়নি।
সাবেক শিক্ষার্থী রাব্বি হাওলাদার বলেন, এই বিদ্যালয় আমাদের আস্থা ও ভালোবাসার জায়গা। যারা এভাবে ক্ষতি করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত।
শিক্ষক মো. কাওসার মেহেদী ও দিপংকর হাওলাদার বলেন, তাদের শিক্ষক জীবনে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। তারা মর্মাহত।
ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াচ মিয়া রিপন বলেন, ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
প্রধান শিক্ষক নিয়াজ মোশেদ বলেন, ‘আমি অনুষ্ঠানের সময় উপজেলা সদরে জরুরি কাজে ছিলাম। পরে এসে ঘটনাটি জানতে পারি। ভিডিও দেখে পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের ডেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, বিষয়টি জানার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ডেকে ক্ষতিপূরণ আদায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।