সোমবার ● ১৩ এপ্রিল ২০২৬
কলাপাড়ায় ১৪ ফুট ইলিশ নিয়ে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতি
হোম পেজ » সর্বশেষ » কলাপাড়ায় ১৪ ফুট ইলিশ নিয়ে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে ১৪ ফুটের বিশাল রুপালি ইলিশসহ বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রংধনু’র আয়োজনে এ শোভাযাত্রায় স্থান পাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যের নানা প্রতীক।
শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে ১৪ ফুট দৈর্ঘ্যের ইলিশ মাছ, যা বর্তমানে শেষ মুহূর্তের রং-তুলির কাজে ব্যস্ত শিল্পীরা। পাশাপাশি থাকছে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শান্তির প্রতীক পায়রা, বক, পেঁচা এবং শৈশবের হারিয়ে যাওয়া শতাধিক মুখোশ।
আয়োজকরা জানান, বাংলা ১৪০০ সালের পর এই প্রথমবারের মতো কলাপাড়ায় এমন বর্ণাঢ্য বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।
শোভাযাত্রা ঘিরে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কেউ দিচ্ছেন রঙের শেষ আঁচর, কেউ তৈরি করছেন মুখোশ। এতে যুক্ত রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি চারুকলার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও। শোভাযাত্রায় আরও থাকছে বাঙালির কৃষিজ ঐতিহ্যের জোংড়া ও মাছ ধরার নানা প্রাচীন সামগ্রী।
রংধনু’র সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোশারফ কল্লোল জানান, ‘গত তিন দশকে নতুন প্রজন্মের কাছে বৈশাখ উদযাপন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে নতুন পোশাক, ঘোরাঘুরি ও গানবাজনায়। তাদের কাছে বাঙালির ঐতিহাসিক সংস্কৃতি অনেকটাই অজানা। তাই কলাপাড়ার সামুদ্রিক ইলিশসহ হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্যগুলোকে সামনে আনা হচ্ছে।’
যশোর চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কলাপাড়ার কৃতি শিল্পী মো. রিপন লামা বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরতেই আমরা এ আয়োজন করছি। কলাপাড়ার হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
সংগঠনের সভাপতি হুমায়ন কবির জুয়েল সিকদার বলেন, ‘কলাপাড়ায় গত ৩৩ বছরে এমন আয়োজন হয়নি। নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করাতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।’ তিনি জানান, শোভাযাত্রার পাশাপাশি লোকজ খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা ও দধি বিতরণ করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৭:২২ ● ২৪ বার পঠিত
