সোমবার ● ৩০ মার্চ ২০২৬

ইঞ্জিন জ্বালানি সংকটে অচল পিরোজপুরের পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর, বন্ধ ট্রলার চলাচল

হোম পেজ » লিড নিউজ » ইঞ্জিন জ্বালানি সংকটে অচল পিরোজপুরের পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর, বন্ধ ট্রলার চলাচল
সোমবার ● ৩০ মার্চ ২০২৬


 

ইঞ্জিন জ্বালানি সংকটে অচল পিরোজপুরের পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর, বন্ধ ট্রলার চলাচল

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, জিয়ানগর (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে ইঞ্জিন জ্বালানির চরম সংকটে সমুদ্রগামী মাছধরা ট্রলার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ঘাটজুড়ে শত শত ট্রলার নোঙর করে থাকলেও জ্বালানির অভাবে সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, জ্বালানির ব্যবস্থা হলেই ট্রলারগুলো সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতিতে থাকলেও টানা কয়েকদিন ধরে সংকটের কারণে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, প্রায় ৮-৯ দিন ধরে ইঞ্জিন জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান মিলছে না। তাদের দাবি, পাড়েরহাট বন্দরের কিছু বড় ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি মজুদ করে রেখেছেন। নিজস্ব ট্রলার থাকায় তারা নিজেদের কাজে জ্বালানি ব্যবহার করলেও অন্যদের কাছে সরবরাহ করছেন না।

 

মৎস্য ব্যবসায়ী ফারুক সাগরকন্যাকে জানান, পাড়েরহাট দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য আড়ৎ, যেখানে প্রতিদিন শত শত ট্রলার যাতায়াত করে।

সাধারণ জেলে ও ট্রলার মালিকরা জানান, দবির হাওলাদার ও রাখাল মালাকারসহ বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই জ্বালানি সংগ্রহ করেন তারা। কিন্তু বর্তমানে তারা জ্বালানি দিচ্ছেন না।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৎস্যজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে জ্বালানির প্রকৃত সংকট নেই; বরং গোপন গুদাম, বাসাবাড়ির ছাদঘরসহ বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি মজুদ করে রাখা হয়েছে। প্রশাসন সঠিকভাবে অভিযান চালালে এসব জ্বালানির সন্ধান পাওয়া সম্ভব।

 

মৎস্য আড়তের সহ-সভাপতি মো. ইকবাল সাগরকন্যাকে বলেন, সমুদ্রে মাছের প্রাচুর্য থাকলেও ইঞ্জিন জ্বালানির অভাবে অনেক ট্রলার বসে আছে। এতে জেলে পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়ছে। অনেক শ্রমিক পেশা ছেড়ে শহরে বিকল্প কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছেন, ফলে শ্রমিক সংকটও দেখা দিচ্ছে।

 

এদিকে একই সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পরিবহন খাতেও। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল চালকরা পেট্রোল ও অকটেন না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। কোথাও কোথাও জ্বালানি পাওয়া গেলেও তা লিটারপ্রতি ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতার এ ধরনের জ্বালানি বিক্রির বৈধ অনুমতিও নেই।

 

খুচরা বিক্রেতারা জানান, চরখালী ফেরিঘাট এলাকার একটি ডিপো থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হওয়ায় তারাও উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, সংকট শুরুর পর থেকেই অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও জ্বালানি মজুদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৫৭:১৮ ● ৩৭ বার পঠিত