শুক্রবার ● ১৩ মার্চ ২০২৬
বরগুনায় ট্রলারে জ্বালানি সংকটে জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না
হোম পেজ » বরগুনা » বরগুনায় ট্রলারে জ্বালানি সংকটে জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক,বরগুনা
বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলায় দেশের বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে (বিএফডিসি) গত তিন দিন ধরে তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে শতাধিক মৎস্য ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে পারছে না। ঈদের আগমুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে জেলে পল্লীতে হতাশা বিরাজ করছে। অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ট্রলার মালিকরা। ঈদের আনন্দ ম্লান হতে হতে চলছে।
জানা যায়, জেলেরা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ বিক্রি করে প্রয়োজনীয় রসদ ও জ্বালানি সংগ্রহ করে ট্রলার নিয়ে আবার বঙ্গোপসাগরে পাড়ি দেয়। তবে ডিজেল সংকটের কারণে বর্তমানে অনেক মাঝিরা মাছ বিক্রি করে ট্রলার ঘাটে বেঁধে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
পাথরঘাটার এক ট্রলার মাঝি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাথরঘাটা বাজারে অনেক ব্যবসায়ীদের দোকানে ডিজেল থাকলেও বিক্রি করছেন না। বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা দিলে গোপনে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগে সাগরে মাছ ধরে কিছু টাকা আয় করে পরিবার নিয়ে ঈদ করার আশা ছিল।ডিজেল সংকটে এবার সেই আশা পূরণ নাও হতে পারে। সাগরে মাছ ধরতে না পারলে পরিবার নিয়ে ঈদ করা সম্ভব হবে না।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, পাথরঘাটার বেশ কয়েকটি জ্বালানি তেলের দোকানে পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি দামের আশায় তেল মজুত করে রেখেছে। জেলেরা সমুদ্রে যাওয়ার মত ডিজেল না পেয়ে অনেকে ট্রলার নোঙ্গর করে আছেন। এমন অবস্থায় আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
পাথরঘাটার তেল ব্যবসায়ী ফারুক ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী ফারুক হাওলাদার গণমাধ্যম কর্মিদের বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক তাদের ডিপো থেকে কোটা ভিত্তিক তেল সরবরাহ করা হয়। পাথরঘাটায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে মোট পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার গণমাধ্যম কর্মিদের জানান, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যদি জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এমএইচকে/এমআর
বাংলাদেশ সময়: ১৭:১২:৫৩ ● ৪০ বার পঠিত
