বুধবার ● ৪ মার্চ ২০২৬

মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে পৃথক তিন মামলা লিবিয়ায় বন্দি গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার ৭০ যুবক

হোম পেজ » লিড নিউজ » মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে পৃথক তিন মামলা লিবিয়ায় বন্দি গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার ৭০ যুবক
বুধবার ● ৪ মার্চ ২০২৬


মানবপাচারে অভিযুক্ত গৌরনদীর প্রবাসী দুইভাই শাইকব মোল্লা ও জাকির মোল্লা। ছবি- সংগৃহীত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)

বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক যুবকের ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন এখন লিবিয়ায় বন্দিদশায় আটকে আছে। দালালচক্রের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে নিয়ে তাদের লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন ভুক্তভোগী পৃথকভাবে বরিশাল মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট ডুমুরিয়া গ্রামের মেহেদী হাসান খান, ২৫ জানুয়ারি গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা মাদারীপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ এবং ৫ জানুয়ারি পশ্চিম সমরসিংহ গ্রামের আব্দুর রহিম সরদার বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযোগ আমলে নিয়ে গৌরনদী উপজেলা ও আগৈলঝাড়া উপজেলা থানার ওসিকে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।

মামলায় গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ডুমুরিয়া গ্রামের মৃত আইউব আলীর ছেলে জামাল মোল্লা (৫০), তাঁর ইতালি প্রবাসী দুই ছেলে জাকির মোল্লা (৩৫) ও সাকিব মোল্লা (৩৩), জামালের দুই শ্যালক পূর্ব ডুমুরিয়া গ্রামের মৃত বুদাই বেপারীর ছেলে বাবুল বেপারী (৪৫) ও হাবুল বেপারী ওরফে হাবুল মেম্বার (৪২)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ইতালি পাঠানোর নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণসহ প্রত্যেকের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈধ ওয়ার্ক পারমিটে ইতালি নেওয়ার কথা বলে প্রথমে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পূবালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক পিএলসির বিভিন্ন হিসাবে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পাঠানোর পরও তাদের ইতালির পরিবর্তে সৌদি আরব, মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে নির্যাতনের পর অতিরিক্ত ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মেহেদী হাসান বলেন, গত ২৬ আগস্ট তাঁকে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে প্রথমে সৌদি আরব, পরে মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে আটক রেখে নির্যাতনের পর তাঁকে বেনগাজির বাংকিনা কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় দেড় মাস কারাবন্দি থাকার পর পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করলে স্বজনরা ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে গত ৪ জানুয়ারি তাঁকে দেশে ফেরান।

ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জানান, গৌরনদীর ৬০ ও আগৈলঝাড়ার ১০ যুবকসহ মোট ১০৮ জনকে গত ৮ ও ২২ সেপ্টেম্বর রাতে লিবিয়ার বেনগাজি উপকূল থেকে তিনটি স্পিডবোটে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। ১০ থেকে ২০ ঘণ্টা পর লিবিয়া কোস্টগার্ড তাদের আটক করে বাংকিনা কারাগারের পাশের একটি গ্যারেজে বন্দি রাখে। পরে দালালচক্রের মাধ্যমে ৭০ জনকে কারাগার থেকে বের করে পুনরায় জিম্মি করা হয়। গত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫ যুবক মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফিরেছেন।

গৌরনদী থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, থানায় দায়ের হওয়া দুটি মানব পাচার মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। এজাহারভুক্ত তিন আসামি বর্তমানে বরিশাল কারাগারে এবং দুইজন বিদেশে অবস্থান করছেন।

আগৈলঝাড়া থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। জামাল মোল্লা ও বাবুল বেপারী কারাগারে রয়েছেন, হাবুল বেপারী পলাতক এবং অপর দুই আসামি বিদেশে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৯:১১ ● ২৫ বার পঠিত