সোমবার ● ২ মার্চ ২০২৬
বরগুনায় নামের মিল থাকায় জেল খাটলেন নির্দোষ রেহেনা
হোম পেজ » বরগুনা » বরগুনায় নামের মিল থাকায় জেল খাটলেন নির্দোষ রেহেনা
সাগরকন্যা প্রতিবেদক,বরগুনা
আসামী না হয়েও শুধু নামে মিল থাকায় জেল খাটলেন নির্দোষ রেহেনা বেগম। নির্দোষ রেহেনা বেগম বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ধনমানিক চত্রা গ্রামের খলিলুর রহমান খানের স্ত্রী। প্রকৃত আসামী হচ্ছে একই গ্রামের মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের স্ত্রী মোসা. রেহেনা বেগম।
জানা গেছে, বরগুনার একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা (আরডিএফ) মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের স্ত্রী মোসা. রেহেনা বেগমের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপীর মামলা করে। সেই মামলায় আদালত রেহেনার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানার নির্দেশ দেন। বেতাগী থানার পুলিশ নাম স্বামীর নাম যাচাই বাচাই না করে ২৭ ফেব্রুয়ারী একই গ্রামের খলিল খানের স্ত্রী রেহেনা বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার।
নিরপরাধ রেহেনা বেগমের পরিবার গত ১ মার্চ রবিবার বেতাগী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শরণাপন্ন হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালতে গৃহবধূর জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাক্ষ্য-প্রমাণ দাখিল করা হলে বিচারকের কাছে স্পষ্ট হয় গ্রেফতারকৃত এই নারী মামলার প্রকৃত আসামি নন। ওই আদালত খলিলুর রহমান খানের স্ত্রী রেহেনা বেগমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কেনো এমন মারাত্মক ভুল হলো এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কেনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত পুলিশকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রেহেনা বেগমের আইনজীবী নারগীস পারভীন সুরমা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আদালত ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বরগুনার পুলিশ সুপারকে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী রেহেনার ছোট ছেলে মো. রিপন খান বলেন, আমার মা আরডিএফ থেকে কোনো ঋণ গ্রহন করেনি। আমার মাকে বেতাগী থানার পুলিশ যখন গ্রেফতার করেন তখন আমরা বলেছি আমার মা কোনো ঋণ গ্রহণ করেনি। পুলিশ আমাদের কোনো কথা শুনেনি। পুলিশের ভুলের কারনে আমার মা দুইদিন জেল খেটেছেন।
কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও পবিত্র রমজান মাসে আমার মাকে কেনো দুই দিন হাজতবাস করতে হলো, এর বিচার আমরা কার কাছে চাইব।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক মোসা. পিয়ারা বেগম বলেন, এটি পুলিশের চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। একজন নিরপরাধ মানুষকে শুধুমাত্র নামের মিল থাকার অজুহাতে জেলে পাঠানো কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ যদি গ্রেফতারের আগে অন্তত একবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতেন, তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যেত। আমরা চাই এই ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এনজিও আরডিএফ-এর বেতাগী শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফারুক হোসেন জানান, মামলাটি প্রকৃত ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধেই করা হয়েছিল। পুলিশ ভুল করে নামের মিল থাকায় অন্য রেহেনাকে গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি আমরা জানার পরে আমরা আদালতকে সহযোগিতা করেছি। বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, তথ্য বিভ্রাটের কারণে এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হয়েছে। এই ঘটনার জন্য পুলিশ প্রশাসন মর্মাহত ও দুঃখিত। ভবিষ্যতে যেনো কোনো সাধারণ মানুষ এভাবে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।
এমএইচকে/এমআর
বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৭:১০ ● ৬৮ বার পঠিত
