
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
সরকারি টানা তিন দিনের ছুটি ও শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে পর্যটকে ভরে উঠেছে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের জন্য পরিচিত পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের আগমনে ব্যস্ত হয়ে ওঠে কুয়াকাটার প্রধান পর্যটন স্পটগুলো। জিরো পয়েন্ট, লেম্বুরবন, জাতীয় উদ্যান, গঙ্গামতি ও আশপাশের সৈকত এলাকায় ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি। কেউ বালিয়াড়িতে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ সমুদ্রের পানিতে নেমে সাঁতার উপভোগ করছেন, আবার অনেকেই প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।
পর্যটকের ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়। হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসগুলোতে প্রায় সব কক্ষই বুকিং রয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে ফিস ফ্রাই, আচারসহ বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ ও স্থায়ী দোকানের বিক্রি।
সৈকতসংলগ্ন এক ফিস ফ্রাই বিক্রেতা বেলাল বলেন, দীর্ঘদিন পর এমন পর্যটক সমাগম দেখা যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। আচার বিক্রেতা মো. রহমান জানান, একদিনেই কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটকের উপস্থিতি ছিল, যা ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির।
আবাসিক হোটেল সাউথ বিচের মালিক মো. সোহেল মিয়া বলেন, পর্যটন মৌসুমের কারণে তার হোটেলের সব কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। সামনে নির্বাচন থাকায় সাময়িকভাবে পর্যটক কমতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো. রবিন জানান, কুয়াশার কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা সম্ভব হয়নি। তবে শীত থাকলেও কুয়াকাটার পরিবেশ তার ভালো লেগেছে। রংপুরের পর্যটক নাহিদ বলেন, অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে এবার হোটেলে রুম পেতে কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে। তিনি পর্যটন এলাকাগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের দাবি জানান।
হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোতালেব শরীফ জানান, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর কুয়াকাটার প্রায় ৯৫ শতাংশ হোটেল কক্ষ বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ছুটির সময়ে লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি মহিপুর থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতে পৌর প্রশাসন, পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে।