
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বেড়েরধন নদীর উপর ‘ডোমরাবাদ-জলিশা সংযোগ সেতুটি’ প্রায় ছয় বছর ধরে বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে দুই উপজেলার মানুষ গাছের গুঁড়ি ও নেট জাল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন।
সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় মির্জাগঞ্জ ও বরগুনার বেতাগী উপজেলার জলিশা, হোসনাবাদসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ডোমরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ২০০৬ সালের ৭ এপ্রিল তৎকালীন স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী সেতুটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু ২০২০ সালের জানুয়ারিতে একটি মালবোঝাই ট্রলারের ধাক্কায় সেতুর পশ্চিমাংশ নদীতে পড়ে যায়। তখন থেকে খেয়া নৌকায় পারাপার করলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্থানীয়রা গাছের গুঁড়ি ও জাল দিয়ে সাঁকো তৈরি করে ব্যবহার শুরু করেন।
ডোমরাবাদ এলাকার বাসিন্দা আতাহার আলী সিকদার জানান, স্থানীয়দের অর্থায়নে বারেক হাওলাদার, সত্তার সিকদারসহ কয়েকজন মিলে সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন। এতে শিশু ও বৃদ্ধদের পারাপারে কিছুটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ব্রীজ না থাকায় দুই উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, ভেঙে যাওয়া সেতুর স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে কাজ শুরু করা হবে।
ইউজি/এমআর