সোমবার ● ২ নভেম্বর ২০২৬
নাজিরপুরের কলেজে পাঁচ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেননি, শিক্ষক আটজন
হোম » পিরোজপুর » নাজিরপুরের কলেজে পাঁচ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেননি, শিক্ষক আটজন
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নাজিরপুর (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেননি। কলেজটির মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির গত চার বছরের ফলাফলও হতাশাজনক। প্রতিবছরই পাসের চেয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নাজিরপুর উপজেলার শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে দিঘিরজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখা থেকে এবারই প্রথম কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। কলেজ শাখায় আটজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও এমন ফলাফলে পাঠদানের মান ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
প্রতিষ্ঠানটির গত চার বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেন ১৮ জন। ২০২৪ সালে ২৭ জনের মধ্যে পাস করেন ১৩ জন। ২০২৫ সালে ১৫ জনের মধ্যে পাস করেন পাঁচজন। আর ২০২৬ সালে পাঁচজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
জানা গেছে, দিঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ শাখা ২০১৪ সালে পাঠদানের অনুমতি পায়। এরপর থেকে প্রতিবছরই প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক সুমন বিশ্বাস বলেন, কলেজটি নন-এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষকরা সরকারিভাবে কোনো বেতন-ভাতা পান না। ফলে তাঁরা আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। এ কারণে শিক্ষার্থীরাও এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না। তারপরও প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে ভর্তি করানো হয়।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না জানিয়ে সুমন বিশ্বাস বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাস করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও কলেজে আসে না। বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরও তাদের নিয়মিত উপস্থিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আজ ছয়জন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও একজন শিক্ষার্থীও কলেজে আসেনি। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিই ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।
দিঘিরজান স্কুল অ্যান্ড কলেজের দায়িত্ব নেওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম অসুস্থ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:০০:৩৪ ● ২৩ বার পঠিত
