৯ বছর পর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল, থাকছে নানা আয়োজন

হোম » কুয়াকাটা » ৯ বছর পর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল, থাকছে নানা আয়োজন
বুধবার ● ২১ অক্টোবর ২০২৬


৯ বছর পর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল, থাকছে নানা আয়োজনসাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

 

একই সৈকতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য অভিজ্ঞতা, বঙ্গোপসাগরের ঢেউ, লাল কাঁকড়ার বিচরণ, লেম্বুর বনের সবুজ আর রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য - প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এসব বৈচিত্র্য তুলে ধরতে দীর্ঘ ৯ বছর পর কুয়াকাটায় ফিরছে পর্যটন কার্নিভাল। আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬’।

 

দুই দিনের এ আয়োজনে থাকছে বিচ ফুটবল, বিচ ম্যারাথন, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফ্যাশন শো, কমেডি পরিবেশনা ও চর বিজয় ভ্রমণ। সংগীতশিল্পী ও অভিনয়শিল্পীদের অংশগ্রহণে উৎসবকে বর্ণিল করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। ২৫ অক্টোবর আয়োজন করা হবে ‘ক্লিন কুয়াকাটা’ কর্মসূচি।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, কার্নিভালের মাধ্যমে সমুদ্রসৈকতের বাইরেও কুয়াকাটার প্রকৃতি, স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার ও দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের কাছে নতুনভাবে পরিচিত হবে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রটিতে বিনিয়োগ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

 

তারকাদের পরিবেশনায় জমবে উৎসব

 

কার্নিভালে সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান, ঐশী, হাসান, আরমান আলিফ ও চিশতী বাউলের পরিবেশনার পরিকল্পনা রয়েছে। থাকছে নৃত্য, ফ্যাশন শো ও কমেডি অনুষ্ঠান। সাদ্দাম মাল ও তাঁর দলের কমেডি নাটকের পাশাপাশি ঢাকার শিল্পীদের পরিবেশনাও আয়োজনের তালিকায় রয়েছে।

 

অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে সিয়াম আহমেদ, কেয়া পায়েল ও বিদ্যা সিনহা মিমের নাম প্রচারিত তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া চাষী ভাই, হাবু ভাই ও নোমানীসহ বিনোদনজগতের পরিচিত মুখদের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

 

ফ্যাশন শোতে আঁখি আফরোজ, সৈয়দ রুমা ও আফরিনা রাজিয়া তৃণার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ডানা ভাই ও বারিশা হকও থাকছেন তালিকায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় থাকবেন শান্তা জাহান, ইভান ও সাদিয়া রশনি সূচনা।

 

সৈকতে খেলাধুলা, ঘুড়ি উৎসব ও ম্যারাথন

 

২৩ অক্টোবর সকাল ৯টায় বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে প্রথম দিনের আয়োজন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. সামীমুজ্জামান।

 

চর বিজয়, ফাতরার চর, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, চর হেয়ার, সোনার চর, হরিণঘাটা ও কাউয়ার চরকে ঘিরে দলভিত্তিক বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে। বিকেলে লেম্বুর বনে হবে ঘুড়ি উৎসব ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যায় থাকছে পুঁথিপাঠ, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা, নৃত্য, ফ্যাশন শো ও কমেডি অনুষ্ঠান।

 

দ্বিতীয় দিন ২৪ অক্টোবর ভোর ৫টায় কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে গঙ্গামতির চর পর্যন্ত বিচ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সকাল ৫টা ৫৭ মিনিটে গঙ্গামতির চরে সূর্যোদয় দেখার পর সকাল ৬টায় শুরু হবে পিঠা উৎসব।

 

সকাল ৯টায় সমুদ্রপথে চর বিজয়ের উদ্দেশে যাত্রা এবং সেখানে ভলিবল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিকেল ৪টায় হবে সেলিব্রেটি বিচ ক্রিকেট। রাতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান ও চর নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র, কমেডি শো এবং সংগীতানুষ্ঠান থাকবে। রাত ১০টা ২০ মিনিটে পুরস্কার বিতরণ ও সম্মাননা এবং রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে আতশবাজি ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সূচি রয়েছে।


৩০ স্টলে তুলে ধরা হবে স্থানীয় ঐতিহ্য

 

কার্নিভালে ৩০টি স্টল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গামতি এলাকার জন্য চারটি স্টল রাখা হবে। পাশাপাশি রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার, কৃষিপণ্য, বয়নশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য তুলে ধরার উদ্যোগ রয়েছে।

 

আয়োজকদের পরিকল্পনায় চর বিজয় ভ্রমণও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সমুদ্রের বুকে অবস্থিত এ চরকে ঘিরে নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে স্পিডবোটে যাত্রার আয়োজন রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে কুয়াকাটার পরিচিত পর্যটন এলাকার বাইরে নতুন আকর্ষণের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

 

নিরাপত্তায় ৮০০ পুলিশ, চার মেডিকেল টিম

 

কার্নিভাল ঘিরে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক।

 

তিনি জানান, নিরাপত্তায় ৮০০ পুলিশ সদস্য, আটটি চেকপয়েন্ট, চারটি পার্কিং জোন, ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক, শতাধিক বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্য এবং চারটি মেডিকেল টিম রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।

 

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কুয়াকাটার সম্ভাবনাময় পর্যটনস্থানগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর আশা, কার্নিভালের মাধ্যমে কুয়াকাটার পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, কার্নিভাল সফল করতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয় ও সহযোগিতায় কাজ করা হচ্ছে। এ আয়োজন ঘিরে চার থেকে পাঁচ লাখ পর্যটকের আগমন হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

 

তিনি আরও বলেন, কুয়াকাটায় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও কার্নিভাল ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৬:৪৪ ● ২৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ