মাইক্রোওয়েভে যেসব ৫ খাবার গরম করা বা রান্নায় সতর্ক থাকবেন

হোম » লাইফস্টাইল » মাইক্রোওয়েভে যেসব ৫ খাবার গরম করা বা রান্নায় সতর্ক থাকবেন
শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬


মাইক্রোওয়েভে যেসব ৫ খাবার গরম করা বা রান্নায় সতর্ক থাকবেনসাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক

 

রান্নাঘরে দ্রুত খাবার গরম করা কিংবা ঝটপট রান্নার জন্য মাইক্রোওয়েভ ওভারের ব্যবহার বেশ সুবিধাজনক। তবে সব খাবার এতে রান্না বা গরম করা নিরাপদ নয়। কিছু খাবারের ক্ষেত্রে পুষ্টিগুণ, স্বাদ ও গঠন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আবার কিছু খাবার সঠিকভাবে প্রস্তুত বা সংরক্ষণ না করলে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের সময় কয়েকটি খাবারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

 

জেনে নিন এমন পাঁচটি খাবার সম্পর্কে-

 

১. ব্রকলি

 

ব্রকলি দ্রুত গরম করার জন্য মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করা যায়। তবে রান্নার পদ্ধতি ও পানির পরিমাণের ওপর এর পুষ্টিগুণ কতটা সংরক্ষিত থাকবে, তা নির্ভর করে। অতিরিক্ত পানি দিয়ে দীর্ঘ সময় রান্না করলে পানিতে দ্রবণীয় কিছু ভিটামিনের পরিমাণ কমতে পারে।

 

ব্রকলির পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে অল্প পানি দিয়ে অল্প সময় রান্না করা ভালো। মাইক্রোওয়েভে ঢেকে অল্প সময় রান্না করা কিংবা চুলায় ভাপে সেদ্ধ করা - দুটিই ভালো পদ্ধতি।

 

২. ডিম

 

খোসাসহ আস্ত ডিম মাইক্রোওয়েভে গরম করা বিপজ্জনক হতে পারে। ডিমের ভেতরে বাষ্প জমে চাপ তৈরি হলে রান্নার সময় কিংবা মাইক্রোওয়েভ থেকে বের করার পর ডিমটি বিস্ফোরিত হতে পারে। এতে গরম ডিম ছিটকে পড়ে পোড়ার ঝুঁকি থাকে।

 

ডিম সেদ্ধ করতে চুলা ব্যবহার করাই সহজ ও নিরাপদ উপায়। মাইক্রোওয়েভে ডিম রান্না করতে হলে উপযুক্ত পাত্রে খোসা ছাড়া ডিম ব্যবহার করতে হবে এবং রান্নার আগে কুসুম ফুটো করে দেওয়াসহ যন্ত্রের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

 

৩. ভাত

 

বাসি ভাত মাইক্রোওয়েভে গরম করার ক্ষেত্রে মূল সতর্কতা হলো এর সঠিক সংরক্ষণ। রান্না করা ভাতে ব্যাসিলাস সেরিয়াস নামের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। ভাত দীর্ঘ সময় কক্ষ তাপমাত্রায় পড়ে থাকলে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি এবং বিষাক্ত পদার্থ তৈরির ঝুঁকি বাড়ে। পরে গরম করলেও এসব বিষাক্ত পদার্থের সব সময় নষ্ট হয় না।

 

তাই রান্না করা ভাত দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখতে হবে। পুনরায় খাওয়ার সময় ভাতের সব অংশ ভালোভাবে গরম করতে হবে। মাইক্রোওয়েভেও ভাত নিরাপদে গরম করা যায়, তবে মাঝখানে নেড়ে দেওয়া এবং সর্বত্র সমানভাবে গরম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘ সময় বাইরে পড়ে থাকা ভাত শুধু গরম করে খাওয়া নিরাপদ নয়।

 

৪. আলু

 

আলু মাইক্রোওয়েভে রান্না বা গরম করা যায়। তবে ফয়েলে মোড়ানো আলু রান্নার পর দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ফয়েলে মোড়ানো রান্না করা আলু অনুপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করলে ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামের ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

নিরাপদ থাকতে রান্না করা আলু দীর্ঘ সময় বাইরে ফেলে রাখা যাবে না। দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে এবং পুনরায় গরম করার সময় ভালোভাবে গরম করতে হবে। আলু বেক করা, সেদ্ধ করা কিংবা মাইক্রোওয়েভে রান্না করা - সব ক্ষেত্রেই সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

 

৫. মুরগির মাংস

 

কাঁচা মুরগির মাংস মাইক্রোওয়েভে রান্না করলে তাপ সব অংশে সমানভাবে পৌঁছাতে নাও পারে। ফলে কোনো অংশ ভালোভাবে রান্না হলেও অন্য অংশে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে যেতে পারে। সালমোনেলার মতো জীবাণু খাদ্যবাহিত অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

 

মুরগির মাংস চুলায় রান্না, বেক কিংবা গ্রিল করা যায়। মাইক্রোওয়েভেও রান্না করা সম্ভব, তবে মাংসের প্রতিটি অংশে নিরাপদ অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যনিরাপত্তার জন্য মুরগির মাংসের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অন্তত ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়া জরুরি।

 

মনে রাখবেন: মাইক্রোওয়েভ নিজে সব খাবারের জন্য অনিরাপদ নয়। সঠিক পাত্র ব্যবহার, উপযুক্ত সময়ে রান্না, খাবারের সর্বত্র সমানভাবে তাপ পৌঁছানো এবং রান্না করা খাবার যথাযথভাবে সংরক্ষণ করাই নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার মূল শর্ত।

বাংলাদেশ সময়: ৬:৫০:২৭ ● ১৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ