রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬

বার্লিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে যাচ্ছেন না ড. ইউনূস, যোগ দিচ্ছেন জোবাইদা রহমান

হোম » লিড নিউজ » বার্লিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে যাচ্ছেন না ড. ইউনূস, যোগ দিচ্ছেন জোবাইদা রহমান
রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬


 

বার্লিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে যাচ্ছেন না ড. ইউনূস, যোগ দিচ্ছেন জোবাইদা রহমান

সাগরকন্যা ডেস্ক

 

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে শুরু হওয়া তিন দিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জোবাইদা রহমান।

 

রবিবার (১১ অক্টোবর) শুরু হওয়া ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬’-এ বাংলাদেশের এই দুই অতিথির রবিবার ও সোমবার দুটি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। আয়োজকেরা আগেই তাঁদের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে ড. ইউনূসের সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

 

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন’। বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংকট, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে সম্মেলনটি।

 

শনিবার বার্লিন পুলিশ কর্তৃপক্ষ সম্মেলনে ড. ইউনূসের অংশ না নেওয়ার বিষয়টি বিক্ষোভের আয়োজক মিজানুর হক খানকে জানিয়েছে। সম্মেলনের যোগাযোগ ও সংবাদমাধ্যমবিষয়ক পরিচালক আনা স্টর্মারও জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে ড. ইউনূস অংশ নিচ্ছেন না। তবে ডা. জোবাইদা রহমান সম্মেলনে যোগ দেবেন।

 

সম্মেলনে ইউনূসের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি

 

সম্মেলনের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছিল ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। এ বিষয়ে সম্মেলনের আয়োজকদের কাছে স্মারকলিপি ও একটি পিটিশন পাঠানো হয়।

 

পিটিশনটি যৌথভাবে দাখিল করে সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, বেলজিয়াম; ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য; ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ ইন জার্মানি; আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স।

 

পিটিশনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৩ এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৭৩। এ সময় সন্দেহভাজন হাম-সম্পর্কিত ১৬৬টি মৃত্যু এবং নিশ্চিত হাম-সম্পর্কিত ৩০টি মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশের বয়স ছিল পাঁচ বছরের নিচে। চলমান সংক্রমণ, বিপুলসংখ্যক টিকাবিহীন বা পর্যাপ্ত টিকা না পাওয়া শিশু এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতির কারণে বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ের ঝুঁকিকে ‘উচ্চ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

 

পিটিশনকারীদের অভিযোগ, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকার প্রাপ্যতা ও সরবরাহ, সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর স্বাধীন পর্যালোচনা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এসব বিষয়ে ড. ইউনূসের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

 

সংগঠনগুলোর মতে, বিষয়টি শুধু হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে দেশের জনস্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা, সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও জড়িত।

 

এ কারণে সম্মেলনে ড. ইউনূসকে বিশেষ বক্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় সংগঠনগুলো। তাঁর আমন্ত্রণ বহাল থাকলে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি হাম প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শিশু চিকিৎসক, টিকাদান বিশেষজ্ঞ ও স্বাধীন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানায় তারা।

 

এদিকে, স্মারকলিপি ও পিটিশনের পাশাপাশি জার্মান আওয়ামী লীগ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে সম্মেলনস্থলের বাইরে বিক্ষোভের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য ৪০০ বিক্ষোভকারীর অংশগ্রহণে কর্মসূচি আয়োজনের পুলিশি অনুমতি নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল গ্রামীণ হেলথটেক নিয়ে

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে, চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি ডা. জোবাইদা রহমান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওয়েবসাইটে তাঁর পরিচিতিতে বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সংস্কার, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং দেশজুড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

 

বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিয়ে মতবিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট প্রতিবছর আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খোঁজা এর অন্যতম লক্ষ্য। সম্মেলনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে।

 

বার্লিনের শারিতে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০০৯ সালে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটের যাত্রা শুরু হয়। ওই বছরের ১৪ থেকে ১৯ অক্টোবর প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিবর্তন’।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩৮:২৪ ● ১৬ বার পঠিত