রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬

মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগপত্র পাননি লালমোহনের ফয়জুল, দাবি পুনর্বিবেচনার

হোম » ভোলা » মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগপত্র পাননি লালমোহনের ফয়জুল, দাবি পুনর্বিবেচনার
রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬


 

লালমোহনে ৪২ জন পেলেন প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগপত্র, বাদ মেধাতালিকায় দ্বিতীয় ফয়জুল

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, লালমোহন (ভোলা)

 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র পাননি ভোলার লালমোহন উপজেলার ফয়জুল আলম। তাঁর দাবি, উপজেলা পর্যায়ে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কারণে নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। একই উপজেলার চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অন্য ৪২ জন নিয়োগপত্র পেলেও তাঁর নাম নেই। এ অবস্থায় নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন ফয়জুল। তাঁর কাছে থাকা কাগজপত্র অনুযায়ী, ভোলা জেলায় এ নিয়োগে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন ২৫৬ জন। তাঁদের মধ্যে লালমোহন উপজেলার ৪৩ জনের একজন ছিলেন তিনি। তবে ফয়জুলের দাবি, বাকি ৪২ জন নিয়োগপত্র পেলেও তিনি পাননি।

 

ফয়জুল আলম লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটিটিয়া গ্রামের বাসিন্দা কাজী মো. নূরুল ইসলামের ছেলে। সম্প্রতি নিয়োগ না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

 

ফয়জুল বলেন, পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তাঁর ওপর। শিক্ষক পদে চাকরি পাওয়ার আশায় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। নিয়োগপত্র না পাওয়ার খবর শুনে তাঁর মা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি। স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও ভাই-বোন নিয়ে তাঁর পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

 

ফয়জুলের ভাষ্য, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে তাঁর নিয়োগ আটকে গেছে। ওই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও তাঁকে জানানো হয়। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ বা ফৌজদারি মামলার রেকর্ড নেই বলে দাবি করেন তিনি।

 

ফয়জুল আরও বলেন, এর আগে তিনবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাননি। এবার চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও যাচাইয়ে বাদ পড়ায় হতাশ তিনি। তাঁর দাবি, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আবেদন করার সুযোগও নেই। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্তি ও নিয়োগপত্র দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

 

ফয়জুল বলেন, ‘নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে আমাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হোক।’ হতাশা প্রকাশ করে আত্মহত্যার চিন্তার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করা জরুরি।

 

বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুন জমাদার বলেন, তাঁর জানামতে, ফয়জুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। পরিবারটি নিম্নবিত্ত। পড়াশোনা শেষে ফয়জুল লালমোহন উপজেলা শহরের একটি অ্যাকাডেমিতে চাকরি করতেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে ৪৩ জনের মধ্যে ফয়জুল দ্বিতীয় হয়েছিলেন বলে শুনেছেন বলেও জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলায় লালমোহনের একজনসহ মোট চারজন শিক্ষক বাদ পড়েছেন। তাঁদের কাগজপত্রসহ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৫:২৪ ● ২৪ বার পঠিত