শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬
বরিশাল বিভাগে এসএসসির ১১৬ কেন্দ্র বাতিলের উদ্যোগ
হোম » শিক্ষা » বরিশাল বিভাগে এসএসসির ১১৬ কেন্দ্র বাতিলের উদ্যোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল
পরীক্ষার্থীর তুলনায় অতিরিক্ত পরীক্ষাকেন্দ্র থাকায় বিপাকে পড়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। বিভাগের ছয় জেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৮০ হাজার ৪৫৮ জন পরীক্ষার্থীর জন্য কেন্দ্র ছিল ২১৬টি। অথচ বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এই সংখ্যক পরীক্ষার্থীর জন্য ১০০টি কেন্দ্রই যথেষ্ট। ফলে অপ্রয়োজনীয় ১১৬টি কেন্দ্র বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বোর্ড।
বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের রাজনৈতিক তদবিরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরীক্ষাকেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী কম থাকলেও পরিচালনা, তদারকি, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ মোতায়েনসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবছর বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে প্রশাসনিক চাপ।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ছয় জেলায় বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ২১৬টি। এর মধ্যে বরিশালে ৭০টি, ভোলায় ৩২টি, বরগুনায় ২৪টি, পটুয়াখালীতে ৪২টি, পিরোজপুরে ২৮টি ও ঝালকাঠিতে ২০টি।
পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় কোনো কোনো উপজেলায় কেন্দ্রের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি। বরিশালের উজিরপুর উপজেলাতেই রয়েছে নয়টি পরীক্ষাকেন্দ্র। বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও ভৌগোলিক দূরত্ব বিবেচনায় একটি উপজেলায় সর্বোচ্চ তিনটি কেন্দ্রেই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভাগের একাধিক কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০০ জনেরও কম। কোনো কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র ৫৬ জন। উজিরপুরের কারফা পাবলিক একাডেমি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ৬৩ জন। মুলাদীর বাটামারা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে মাত্র ৮৯ জন। এ ছাড়া ১১১ ও ১১৫ জন পরীক্ষার্থী নিয়েও দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, একটি কেন্দ্র পরিচালনায় পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন খাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়। ফলে অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীর জন্য পৃথক কেন্দ্র পরিচালনায় বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক চাপও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সম্প্রতি আন্তবোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্র বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় কোন কোন কেন্দ্র বহাল রাখা হবে এবং কোনগুলো বাতিল করা যেতে পারে, সে বিষয়ে মতামত চেয়ে সম্প্রতি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, আমাদের যে সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, তাতে ১০০ কেন্দ্রই যথেষ্ট। তারপরও চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্রগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব কেন্দ্র বাতিল করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১০:২৩:২৪ ● ২৩ বার পঠিত
