বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬

উপকূলের শিক্ষাঙ্গনে গর্বের নতুন অধ্যায় কয়রার সেরাজুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে সেরা গুণী শিক্ষক

হোম » খুলনা » উপকূলের শিক্ষাঙ্গনে গর্বের নতুন অধ্যায় কয়রার সেরাজুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে সেরা গুণী শিক্ষক
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬


 

উপকূলের শিক্ষাঙ্গনে গর্বের নতুন অধ্যায় কয়রার সেরাজুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে সেরা গুণী শিক্ষক

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)

 

সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা খুলনার কয়রা থেকে জাতীয় পর্যায়ে সেরা গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন মঠবাড়ি সেরাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেরাজুল ইসলাম সবুজ। তাঁর এ অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ কয়রার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

 

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে সেরা গুণী শিক্ষক হিসেবে সেরাজুল ইসলাম সবুজকে সম্মাননা ও সনদ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

 

জানা গেছে, সেরাজুল ইসলাম সবুজ প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হন। এরপর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে সেরা গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত সেরাজুল ইসলাম সবুজ শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও মানবিকতা শেখানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁর আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ তাঁকে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে প্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে।

 

নিজের এ অর্জনের পেছনে বাবার স্বপ্ন ও আদর্শকে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সেরাজুল ইসলাম সবুজ।

 

তিনি বলেন, আমার বাবা নিজেও একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ইচ্ছে ছিল, আমি পড়াশোনা শেষ করে যেন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হই। বাবার সেই স্বপ্ন আমি পূরণ করতে পেরেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ তিনি বেঁচে নেই। বাবা যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে আমার এই অর্জনে তিনিই সবচেয়ে বেশি আনন্দিত ও গর্বিত হতেন।

 

মঠবাড়ি সেরাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাখন লাল মন্ডল বলেন, সেরাজুল ইসলাম সবুজ অত্যন্ত ভালো একজন শিক্ষক। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে যেমন শাসন করেন, তেমনি প্রয়োজনের সময় আন্তরিকভাবে ভালোবাসা ও সহযোগিতাও করেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়।

 

তিনি আরও বলেন, শুধু বিদ্যালয়েই নয়, সহকর্মী কিংবা এলাকার কোনো মানুষ বিপদে পড়লেও তিনি পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তাঁর এই অর্জনে আমরা শিক্ষক পরিবার এবং পুরো কয়রাবাসী গর্বিত।

 

উপজেলা শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার বলেন, কয়রার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জাতীয় পর্যায়ে সেরা গুণী শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি কয়রার শিক্ষা অঙ্গনেরও এক গর্বের অধ্যায়। তাঁর সাফল্য উপকূলের শিক্ষাঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৩:৪৪ ● ৩০ বার পঠিত