বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬
পটুয়াখালীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবককে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর অভিযোগ
হোম » পটুয়াখালী » পটুয়াখালীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবককে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর অভিযোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
পটুয়াখালী সদর উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আনসার ঘরামী নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের আগে তাকে জুতার মালা পরিয়ে মারধর ও বিবস্ত্র করে এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজনকে প্রকাশ্যে অপদস্থ ও বিবস্ত্র করে ঘোরানোর ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আনসার ঘরামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর হাজিখালী গ্রামে। আর আনসারকে জুতার মালা পরিয়ে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর ঘটনা ঘটে পাশের কাজিরহাট বাজার ও কাজিরহাট ব্রিজ এলাকায়।
শিশুটির পরিবার ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পথে শিশুটিকে পাখির বাসা দেখানোর কথা বলে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যান তার চাচাতো চাচা আনসার ঘরামী। সেখানে শিশুটির জামাকাপড় খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আশপাশে মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে আনসার পালিয়ে যান বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে থানায় মামলা করেন শিশুটির পরিবার।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে আনসার কাজিরহাট বাজারে গেলে কয়েকজন তাকে আটক করে মারধর ও অপদস্থ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার গলায় জুতার মালা পরানো এবং বিবস্ত্র করে এলাকায় ঘোরানো হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে আনসারের গলায় জুতার মালা পরিয়ে রাখতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় জামার ঘাড় ধরে কাজিরহাট ব্রিজের এপার-ওপার নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওতে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা এইভাবে করবা তাদের শাস্তি এইভাবে হইবে। সাত বছরের মাইয়ার ধর্ষণকারী, দ্যাহো তোমরা…’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনসারকে মারধর ও অপদস্থ করার ঘটনায় কাজিরহাট এলাকার ব্যবসায়ী মিলন মৃধা, মোটরসাইকেলচালক আশরাফ গাজীসহ আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধর্ষণচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার আনসারের বোন লিপি আক্তার বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মাথায় সমস্যা। সে এক বছর যাবত বিছানায় পড়া ছিল। সে ওই মেয়ের সঙ্গে এমন কিছু করে নাই। জমিজমার বিরোধে আমার ভাইকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার পাগল ভাইটাকে ওরা কাজিরহাট ব্রিজে বসে জুতার মালা পড়াইছে, মারধর করে উলঙ্গ কইরা ঘুরাইছে। আমরা এর বিচার চাই।’
প্রতিবেশী খাদিজা বেগম বলেন, ‘আনসার এমন পোলা না। ওর মনে যদি এমন কিছু থাকতো তাইলে কি কাজিরহাট যাইতো। সেইখানকার পোলাপানে ওরে অনেক মারছে। বিবস্ত্র কইরা ৪-৫ বার ব্রিজের এপার-ওপার নেছে-আনছে। এগুলা কোনো মানুষের কাম হইতে পারে না। আমরা এর বিচার চাই।’
এদিকে যুবককে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কচি কাইউম নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ছেলেটির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে, সেটার জন্য আইন আছে, আদালত আছে, প্রশাসন আছে। একতরফা অভিযোগ পেয়ে ছেলেটিকে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে জনসম্মুখে উলঙ্গ করে হাতে ধরে ঘুরানোটাকে আমি দাম্ভিকতা হিসেবেই দেখছি এবং যথেষ্ট ঘৃণার সঙ্গে এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলা হয়েছে। অলরেডি আমরা আসামি ধরেছি। আদালত তাকে জেলে পাঠিয়েছে।’
যুবককে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘বিষয়টা আমার জানা ছিল না। আমাকে ভিডিওটি পাঠান। খোঁজ নিয়ে দেখছি কী করা যায়।’
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫১:৩০ ● ১৮ বার পঠিত
