রবিবার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬

দুমকিতে ‘স্বপ্নে পাওয়া ফুল ও হাড়’ দিয়ে চিকিৎসার দাবি, বাড়ছে মানুষের ভিড়

হোম » আলোচিত খবর » দুমকিতে ‘স্বপ্নে পাওয়া ফুল ও হাড়’ দিয়ে চিকিৎসার দাবি, বাড়ছে মানুষের ভিড়
রবিবার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬


 

দুমকিতে ‘স্বপ্নে পাওয়া ফুল ও হাড়’ দিয়ে চিকিৎসার দাবি, বাড়ছে মানুষের ভিড়

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দুমকি (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ‘স্বপ্নে পাওয়া ফুল ও হাড়’ দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার দাবিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মালেক শরীফের বাড়িতে কথিত এ চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন। কেউ কেউ চিকিৎসা নিয়ে উপকার পাওয়ার দাবি করায় সেখানে রোগী ও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাসিন্দা মস্তফা বয়াতি আগে দিনমজুরি ও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সম্প্রতি তিনি প্রচার করেন, স্বপ্নে তিনি বিশেষ একটি ফুল ও হাড়ের সন্ধান পেয়েছেন। ওই ফুল, পানি ও তেল ব্যবহার করে বিভিন্ন জটিল রোগ নিরাময় সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি। এরপর থেকেই তার বাড়িতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রোগী ও দর্শনার্থীদের সমাগম হচ্ছে।

 

মস্তফা বয়াতির ভাষ্য, কয়েক দিন আগে রাতে ঘুমের মধ্যে তিনি স্বপ্নে বাড়ির পেছনের বাগানে একটি বিশেষ ফুল দেখতে পান। পরে ফুলটি বাড়িতে এনে একটি পাত্রে রাখার পর সকালে সেখানে কিছু হাড় পাওয়া যায়। এরপর স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি মানুষের চিকিৎসা শুরু করেন।

 

চিকিৎসার বিনিময়ে জনপ্রতি ২১ টাকা করে ‘হাদিয়া’ নেওয়া হয় বলে জানান মস্তফা বয়াতি। তার দাবি, ওই অর্থ মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করা হয়। পাশাপাশি সিন্নি ও খিচুড়ি রান্না করে মানুষকে খাওয়ানো হয়।

 

এদিকে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ফুল, পানি ও তেল ব্যবহারের পর শারীরিকভাবে সুস্থ বোধ করছেন বলে দাবি করেছেন। শ্রীরামপুর ইউনিয়ন থেকে আসা এক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ তার মাকে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। এখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার মা কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জি এম এনামুল হক বলেন, ‘স্বপ্নে পাওয়া ফুল, পানি পড়া বা এ ধরনের পদ্ধতিতে রোগ নিরাময়ের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারও ক্ষেত্রে সাময়িক ভালো লাগা মানসিক প্রভাব বা প্লেসবো ইফেক্টের কারণে হতে পারে। গুরুতর অসুস্থ রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে এ ধরনের পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।’

 

চিকিৎসকদের পরামর্শ, কোনো রোগের ক্ষেত্রে প্রচলিত ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসাপদ্ধতির বাইরে গিয়ে অনিশ্চিত কোনো পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৯:৫৬ ● ২৫ বার পঠিত